সব
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে বেনামে বন্ধ কারখানা পরিচালনা, শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বন্ড সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর যুগ্ম কমিশনার কামরুল ও ডিসি ব্যরিস্টার পুরবী কোটি টাকার বিনিময়ে এনবিআরের পূর্বের চিঠি বা আদেশ অগ্রাহ্য করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মেসার্স ইউএজিএম বিডি লিঃ (BIN: ০০৪৭৪৮৫৯৪-০৩০৫) নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে পিভিসি ফ্লেক্স (এইচএস কোড: ৩৯২১.৯০.৯৯) আমদানির প্রাপ্যতা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে কাস্টমস গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রিভেন্টিভ টিম পাঠালে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো প্রকার প্রোডাকশন বা উৎপাদন কার্যক্রম নেই এবং এটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনুমানিক ৯০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির মামলার খসড়া প্রস্তুত করা হয়।
তবে তদন্ত চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি জানান যে, এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কাস্টমস সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বেনামে পরিচালনা করছেন। এরপর কাস্টমস গোয়েন্দার মহাপরিচালক মো. সফিউর রহমানের সাথে দেখা করার পরপরই রহস্যজনক কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ মামলা ও অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বন্ড সুবিধায় ছাড়করণের জন্য সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের খালাতো ভাই পরিচয়দানকারী মোজাম্মেল সাহেবকে কন্ট্রাক্ট দেওয়া হতো। এই মোজাম্মেলের নির্দশনাতেই এনবিআরে কর্মকর্তাদের পোস্টিং নিয়ন্ত্রিত হতো বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের প্রশাসন শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ (যাকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্যাশিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) নিজে গেটে দাঁড়িয়ে থেকে ওই পিভিসি ফ্লেক্সের চালানগুলো খালাস করাতেন।
অভিযোগকারী ফারুক হোসেন জানান, একই বিষয়ে এনবিআরের জিআরএস (GRS)-এ অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো তদন্ত করা হয়নি; বরং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভালো পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রশাসনের পদে থাকাকালীন বেনামে ৪টি বন্ড লাইসেন্স হাতিয়ে নিয়ে খোলা বাজারে বন্ডের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সিআইসি-র যুগ্ম কমিশনার কামরুল সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।
এ অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশ লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্য কীভাবে খালাস করা হলো—তার সুষ্ঠু তদন্তসহ জড়িত সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যান ও এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনবিআর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন রেসপন্স করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি৷
মন্তব্য