সব
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কাকৈরগড়া ইউনিয়নে টাকা ধার দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সোহেল মিয়া বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অর্থাভাবে তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। এদিকে, মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগীর পরিবার সুত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণেরচর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে গুরুতর আহত সোহল মিয়ার বাবা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন মো. মাহবুব রহমান ওরফে লিটন খান (৫০), রাসেল খান (৪৫), শান্ত মিয়া (২২), তাহা খান (১৯) ও চাঁদ খান (১৮)।
মামলার অভিযোগকারী মো. রহম আলী জানান, পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরে ধার নেওয়া টাকা পরিশোধ করার পরও তাঁর কাছে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দাবি করেন লিটন খান। পরবর্তিতে এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হুমকি ও মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রহম আলীর ছেলে সোহেল মিয়া বাড়ি ফেরার পথে কৃষ্ণেরচর বাজারের পশ্চিম পাশে একটি বাড়ির সামনে কয়েকজনের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় তাঁর ওপর ধারালো ছুরি, লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সোহেলের পেটের বাম পাশে ছুরিকাঘাত সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরবর্তিতে ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে রহম আলীর স্ত্রী মোছা. বকুল নাহার ও মেয়ে মোছা. রাজেদা খাতুনও হামলার শিকার হন। তাঁদের মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া রাজেদা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা এবং তাঁর শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় মো. মোজাম্মেল মিয়া ও মো. মোস্তাকিম বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এদিক দিয়ে বাজারে যাচ্ছিলাম, আমাদের সামনেই সোহেল মিয়াকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পরিবারের অন্যান্যদেরও মারধর করা হয়। আমরা প্রাণের ভয়ে ওখান থেকে দ্রুত চলে যাই।
পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান, আহতদের প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনেওয়া হয় পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সোহেল মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সোহেল ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, অর্থাভাবে সোহেলের চিকিৎসা যখন থমকে আছে, ঠিক তখনই সোহেল মিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে কৃষ্ণেরচর বাজার কমিটির সভাপতি লিয়াকত খান বাজার থেকে সহায়তা তুলে আমাদের সহায়তা করেন। বর্তমানে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। সোহেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
সোহেল মিয়ার বাবা মো. রহম আলী সাংবাদিকদের জানান, হামলায় পরিবারের সদস্যরা আহত হওয়ার পর থেকে আমরা আর্থিক, মানুষিক ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। বিশেষ করে সোহেল মিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছি। মামলার আসামি রাসেল খান উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তো হয়েছেই, আমরা যেনো এই মামলায় ন্যায় বিচার পাই। মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
অপরদিকে এ ঘটনা বিষয়ে জানতে মামলার এক আসামি রাসেল খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলায় যেভাবে ঝগড়ার বিবরণ দেয়া হয়েছে মুলত তেমনভাবে ঘটনা ঘটেনি। আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। তবে সামাজিক ভাবে সকলকে নিয়ে বসে এই বিবাদ মিমাংশা করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য