সেলিম মিয়া : তুরাগ নদীর বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত সহ চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই ঢকা মেট্রো (উত্তর), ঘটনায় জড়িত হানিট্র্যাপ করে মুক্তিনপণ চক্রের ৪ সদ্স্য গ্রেফতার, লুন্ঠিত গাড়ী উদ্ধার এবং আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারার জবানবন্দী।
গত ৩০/০৫/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় মো: লোকমান সরদার (৩৮) কুড়িলের বাসা হইতে ভাড়ায় প্রাইভেট কার চালানোর উদ্দশ্যে বাহির হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বাসায় ফিরে না আসায় ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করিয়া ভিকটিমের স্ত্রী যোগাযোগ করিতে ব্যর্থ হন।পরবর্তীতে বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা পুলিশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমের ভাই বাযেজিদ সরদার (২৮) কে জানান যে, অজ্ঞাতনামা কে বা কাহারা বাদীর স্বামী মোঃ লোকমান সরদার(৩৮) কে হত্যা করিয়াছে । তাহার মৃত দেহ তুরাগ নদীতে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট প্লাস্টিকের বস্তার ভিতর ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গিয়াছে। সুরতহাল পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাধ হতে হাতের আঙুল পর্যন্ত চামড়া ছোলা, বাম হাতের কুনই থেকে হাত ভাঙ্গা, বাম পায়ের হাটুর নিচের অংশ ভাঙ্গা, অত্যন্ত নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করে বস্তাবন্দী করে লাশ নদীতে ফেলা হয়| পরবর্তীতে ভিকটিমের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানার মামলা নং-০১, তারিখ ০২/০৬/২০২৬ তারিখ, ধারা-৩০২/২০১/২৪ পেনাল ধারায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির জনগুরুত্ব বিবেচনা করে এবং সিডিউল ভুক্ত হওয়ায় পিবিআই, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে বিশেষ গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে। বর্তমানে এসআই জাকারিয়া আলম মামলাটি তদন্ত করছেন।
মামলার তদন্তে জানা যায়, আসামী সালমানের কথিত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম@ আর্নিবা জারা অত্র মামলার নিহত উবার চালক ভিকটিম লোকমানকে (৩৮) কে টংগী পশ্চিম থানাধীন পাখির বাজার এলাকার হোন্ডা রোডে ডেকে নেন। সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তদন্তে প্রাপ্ত আসামী সালমান, মোঃ আদিব ইসলাম (১৯), রাকিব, ও আসামী মোঃ সবুজ মিয়াসহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামীগণসহ ভিকটিম লোকমান হোসেনকে উপর্যূপরি মারধর করত মাদক সেবনের জন্য ভিকটিমের কাছ থেকে মুক্তিপন হিসেবে ১০,০০০/- আদায় করে হাড়ভাঙ্গা জখম করত, হাত পা বেধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে তুরাগ নদীতে ফেলে দেয় এবং পাঠাও চালক লোকমানের প্রাইভেট কার যাহার রেজিঃ নম্বর -ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮ নিয়ে তদন্তে প্রাপ্ত আসামীসহ অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়।
পিবিআই এর একটি চৌকশ টিম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ পিবিআই কক্সবাজারের সহায়তায় কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর থানাধীন কলাতলী এলাকা হতে আসামী আদিব ইসলামকে এবং আসামী মোঃ এস এম সালমান, আসামী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম @ আনিবা জারা কে ডিএমপি খিলক্ষেত থানাধীন পূর্ব নামাপাড়া এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয় এবং আসামী মোঃ সবুজ মিয়াকে জিএমপি টংগী পশ্চিম থানাধীন পাখির বাজার মাজার বস্তি এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয় এবং গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা হতে ভিকটিমের লুন্ঠিত প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। গত ০৪/০৬/২০২৬ তারিখ জিএমপি গাছাধীন পশ্চিম ঝাঝর উত্তর খাইলকৈর ভিটাজমি হতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেট বিহীন অবস্থায় ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮ গাড়ী উদ্ধার করা হয় এবং গাড়ীর ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করে সঠিকতা নিশ্চিত করা হয়|
আসামী এসএম সালমান নিজেকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন এবং জড়িত অন্যান্য আসামীদের তথ্য প্রকাশ করেছেন| হানিট্রাপ চক্রের মাধ্যমে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে|
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত আছে।
মন্তব্য