ধীরগতি ও অপরিকল্পিতভাবে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন, বালু বাণিজ্য ও দখলের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নাগরিক সংগঠন ময়মমনসিংহ মঞ্চ। আজ শুক্রবার (২০ মে ২০২৬) বিকাল ৪ টায় নগরীর কাচারীঘাটে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার নামে ২০১৯ সালে বিআইডব্লিউটিএ এর অধীনে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করে খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ব্রহ্মপুত্রের উৎসমূখ হতে কাপাসিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার খনন করার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ০৭ বৎসর অতিক্রান্ত হলেও খনন কার্য আশানুরূপ দৃশ্যমান হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানান প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। অপরিকল্পিত খননকার্যের ফলে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, সারা বছর যাতে এ নদে নাব্যতা বজায় থাকে। নদে যাতে সারা বছর যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ যেন ভূমিকা রাখতে পারে। শুষ্কমৌসুমে যাতে ব্রহ্মপুত্রের
গভীরতা ১০ ফুট এবং প্রশস্ততা ৩০০ ফুট থাকে। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরভাবে নদী খনন করা কি হচ্ছে? খননের ফলে নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ার কথা কিন্তু উল্টো দিনদিন পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। তাহলে পরিকল্পিত খননকার্য হচ্ছে কোথায়?
বক্তারা আরো বলেন, ব্রহ্মপুত্র এ অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে খননকার্য করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমানে খননের নামে ব্রহ্মপুত্র নদকে মেরে ফেলা হচ্ছে। খনন করে তোলা বালু নদীর পাড়ে ফেলে রাখার কারণে সেসব এলাকা অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। যে কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ এখন মৃতপ্রায়। নদী রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।
বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত খননের পাশাপাশি এই নদে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। ফসলি জমি, বসতভিটা হারাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। বালুখেকোরা অবৈধভাবে বালু বাণিজ্যের উৎসবে মেতে রয়েছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিকররাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বালুখেকোদের বেপরোয়া দৌরাত্ম পুরো ব্রহ্মপুত্র জুড়ে। তাই সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু বালুখেকোরা বহালেই রয়ে যায়। বালুখেকোদের দমন না ব্রহ্মপুত্রের বিপর্যয় রোধ হবে কিভাবে?
বক্তারা আরো বলেন, মৃতপ্রায় ব্রহ্মপুত্র নদে দখলদারদের রামরাজত্ব চলছে। যেখানে যে যেভাবে পারছে দখল করছে। কখনো নাগরিক সুবিধার নামে, কখনো পুনর্বাসনের নামে, কখনো ধর্মের নামে, কখনোর খেলার নামে, কখনো শিক্ষা বিস্তারের নামে ইত্যাদি নানান অজুহাতে স্থাপনা নির্মাণ করে চলছে নদী দখলের মহোৎসব। আর এসব সবই চলে নদী কর্তৃপক্ষ/প্রশাসনের যোগসাজশে ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে। অথচ নদীতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কোন বিধান নেই। সকল ধরণের দখল ব্রহ্মপুত্র নদ হতে অপসারণ ও বন্ধ করার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসাতে জোর দাবী জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা খনন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরারও দাবি জানান।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মূখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ মূখ্য সমন্বয়ক আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল, সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ, মো: কামরুজামান সাজ, মো: আনোয়ার হোসেন, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, নাজমুল হাসান রাজু খান, সজীব আকন্দ, আবু সাইফ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ্, মো: আনোয়ারুল হক, মো: রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।
মন্তব্য