সব
অভিযুক্ত নায়েব আবুল কালাম
ময়মনসিংহের বাসাবাড়ি পৌর ভূমি অফিসে তথ্য ও বক্তব্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকি, লাঞ্ছিত ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে নায়েব আবুল কালামের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন এশিয়ান টেলিভিশনের ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি মোঃ আবুল মনসুর। তার দাবি, ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকার হাজেরা খাতুন নামে এক বয়স্ক নারী নায়েবের বিরুদ্ধে ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার পরও কাজ না করে দেওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি যাচাই ও নায়েবের বক্তব্য নিতে গেলে আবুল কালাম উত্তেজিত হয়ে ‘আপনি আমাকে চেনেন?’ বলে হুমকি দেন এবং ‘দড়ি আন, বেঁধে ফেলব’ বলেন।
এরপর এক পিয়নসহ কয়েকজন কর্মচারী তার ওপর চড়াও হয়ে লাঞ্ছিত করেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে ভেঙে ফেলা হয় । ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ার কথা বলে উল্লেখ করেন সাংবাদিক।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা কে জানান আবুল মনসুর। পরে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা, নিরপেক্ষ তদন্ত, মোবাইল ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন কল রিসিভ না কারায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক সুরক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ আলী হোসেন রনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছে সাংবাদিক তথ্য বা বক্তব্য চাইলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী জবাব দিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন গোয়ালা অভি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকের স্বাভাবিক পেশাগত দায়িত্ব। সরকারি অফিসে সাংবাদিকের ওপর হামলা বা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক অনিন্দ্য মিন্টু বলেন, সাংবাদিকতার মৌলিক নীতির মধ্যেই রয়েছে অভিযোগের দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া। কোনো সাংবাদিক বক্তব্য চাইলে তার সঙ্গে অসদাচরণ, হুমকি বা হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।
এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে আবুল কালামকে ঘিরে ঘুষ, নামজারি-খারিজে অনিয়ম, ভূমি সংক্রান্ত অনিয়ম ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পূর্বের অভিযোগগুলো আদালত বা প্রশাসনিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক আবুল মনসুর বলেন, তিনি অভিযোগের ক্রসচেক করতেই নায়েবের বক্তব্য নিতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, ঘটনাটি ফৌজদারি বিষয় হওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এখন প্রশাসনের সামনে মূল প্রশ্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নায়েবের বিরুদ্ধে ওঠা ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগেরও তদন্ত হবে কি না।

মন্তব্য