গাহি সাম্যের গান-মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহিয়ান’’ এই প্রতিপাদ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার (৩০ আগষ্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাভিনা গ্রামে নজরুল অধ্যয়ন কেন্দ্র ও ‘জল সিঁড়ি’ পাঠকেন্দ্রের আয়োজনের এ কর্মসুচী পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন গান, আবৃত্তি ও স্মৃতি বিজরিত আলোচনা কবির ৫০তম প্রয়াণ দিবস প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পী, কবি, আবৃত্তিশিল্পী ও সাহিত্যপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর।
সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এই নজরুল অধ্যয়ন কেন্দ্র ও জলসিঁড়ি পাঠাগারটি শুধু বই পড়ার স্থান নয়, বরং গ্রামীণ জনপদে জ্ঞানচর্চা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রত্যন্ত গ্রামে এমন সুন্দর পাঠাগার ও নজরুল অধ্যয়ন কেন্দ্র গড়ে ওঠাকে ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন উপজেলা প্রশাসন সহ আমন্ত্রীত অতিথিগণ।
প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ‘জল সিঁড়ি’ পাঠাগারের সভাপতি মানেশ সাহার সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক দীপক সরকারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ খান, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সাবেক সভাপতি এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক, নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি দিলোয়ার হোসেন তালুকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া, সাংবাদিক দীপক সরকার, রাজেশ গৌরসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধীজন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রেম, বিদ্রোহ, সাম্য ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে শোষণ, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সংগ্রামের প্রেরণা জুগিয়েছেন। তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও স্বাধীনতার চেতনা। যুগ পেরিয়ে গেলেও নজরুলের সৃষ্টি ও দর্শন আজও নতুন প্রজন্মকে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা দেয়। যে কারনে কাজী নজরুলের সাহিত্য সম্পর্কে আমাদের আরো জানতে হবে।
আয়োজকরা জানান, গ্রাম পর্যায়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চাকে আরও বিস্তৃত করাই তাদের লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মকে বই পড়া, কবিতা, গান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি মানবিক ও সংস্কৃতিমনা সমাজ গড়ে তুলতে ‘জল সিঁড়ি’ পাঠাগার ও নজরুল অধ্যয়ন কেন্দ্র ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
মন্তব্য