সব
শনিবার (২৯আগস্ট) বাদ আছর ময়মনসিংহ নগরীর ৪৭ কাচারী রোডস্থ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর জেলা কার্যালয়ে এনসিপির অঙ্গসংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন, এনসিপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়নীতি ও শান্তির শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর ময়মনসিংহ জেলা কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এ.টি.এম. মাহবুব আলম বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুসরণীয় আদর্শ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে রাসুলুল্লাহ -এর শিক্ষা ও আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর ময়মনসিংহ জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিন।
ন্যাশনাল উলামা অ্যালায়েন্স, ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহবায়ক মাওলানা আতিকুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—ন্যাশনাল উলামা অ্যালায়েন্স এর কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা আফনান আহমেদ, মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ, ন্যাশনাল উলামা অ্যালায়েন্স, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জহিরুল ইসলাম উসমানী,জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ,জাতীয় ছাত্রশক্তি, ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহবায়ক আলী হাসান সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম রানা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নাতে রাসুল পরিবেশন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় আদর্শ রেখে গেছেন। তাঁর জীবনে সততা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অস্থিরতা ও পারস্পরিক বিভেদ দূর করতে মহানবী (সা.)-এর সীরাতচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর জীবন ও আদর্শের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত সীরাতভিত্তিক আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।
অথিতিরা এ ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সীরাত প্রতিযোগিতা ও সেমিনারের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও সীরাতচর্চা ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

মন্তব্য