জানা যায়, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনিন্দ্য কুমার দাস দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন।
জানা যায় গতকাল ৯ আগস্ট সন্ধ্যার পর খুলনা সদর থানাধীন ফরাজীপাড়া এলাকার আকবর স্টোরের সামনে বাজার করে বের হওয়ার সময় পাঁচ-ছয়জন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
তার চিৎকারে স্থানীয়রা লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে প্রথমে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
সরকারি কর্মকর্তার ওপর এ হামলা , সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।
হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, হামলাকারীদের সঙ্গে ভুক্তভোগী কর্মকর্তার কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ হামলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
আগেও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে । এ ধরনের হামলার যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচার না হলে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা—যারা প্রতিদিন সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।
সরকারের উচিত মাঠ পর্যায়ে করর্মরত জেলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও সরকারি খাদ্য গুদাম ( এলএসডির) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিন্ত করা।
জানা যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিগত সময়, হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে অনেক জেলা ও উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অনুসন্ধানে জানায় যায় সরকারিভাবে চলতি বোরো ধান ও চাউল সংগ্রহ অভিযানে খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলএসডিতে বস্তা ও জায়গা সংকটের কারনে ধান সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পরিচয়ে গুদামে ধান নিয়ে আসলে গুদামে জায়গা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার গুদামে ধান নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারনে গুদাম কর্মকর্তাকে হুমকি ও দুর্ব্যবহার করা হয়।
ইতিমধ্যে উল্লেখিত বিভাগের বেশ কয়েকটি এলএসডিতে চলতি সংগ্রহ মৌসুমে সুষ্ঠু ভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হেনেন্তার শিকার হয়েছে এলএসডির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। রক্ষা পায়নি নারী কর্মকর্তারাও ।
আবার বেশ কয়েকটি এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে হেনেন্তার শিকার হয়েছোন। একটি সুত্রে জানা যায় জামালপুর জেলার মেলানন্দ, বকশীগঞ্জ উপজেলা এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম মাত্র প্রকৃত কৃষক এর কাছ থেকে ধান কিনে সিন্টিকেটের কাছ থেকে ধান কেনার কারনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খাদ্য কর্মকর্তার পরামর্শে প্রকৃত কৃষক না হয়েও কৃষি অফিস থেকে কৃষি কার্ড নিয়ে অর্থের বিনিময়ে গুদামে ধান নিচ্ছে। এ নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রকৃত কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বক্তব্য জানতে মেলানন্দ ও বকশীগঞ্জ এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন দিলে রিসিভ করেননি।
মন্তব্য