সব
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি, গালিগালাজ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ধারণ করা ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিও বার্তায় ইউএনও কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া, তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বলপ্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিডিওতে আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ‘প্রিয় গৌরীপুরবাসী, আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয় লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন অফিস-আদালতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি, অপব্যবহার ও বলপ্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটছে, যা দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৭ ও ১৮৮ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের পরিস্থিতি পুনরায় দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে হুমকিদাতাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশের দাবি জানান। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গৌরীপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক আশিক পাঠান নিজের ফেসবুক আইডিতে ইউএনওর ভিডিও বার্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, একজন বিসিএস ক্যাডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হয়েও হুমকিদাতাদের নাম প্রকাশ করতে ভয় পাওয়ার কারণ কী। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে তথ্য ও প্রমাণ প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি গৌরীপুর খাদ্যগুদাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন তথ্য চাইতে যান। তাঁদের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হলে তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন। একপর্যায়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইউএনও আরও বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগত ব্যক্তিদের আগে থেকে চিনতেন না। এ কারণে ভিডিও বার্তায় কারও নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি।
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ইউএনও বিষয়টি তাঁদের জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পরিচয় দিয়েছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে চিহ্নিত করে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিএনপি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলে এবং কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে,এরকম হুমকির ঘটনা নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলা খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন খাদ্য গুদামে ঘটেছে। সরকারি নিয়ম ও নীতির বাহিরে রাজনৈতিক পরিচয়ে তদ্ববির নিয়ে যায় ।
মন্তব্য