সব
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণসাংস্কৃতিক সংগঠন সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৭ টায় নগরীর জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বর সংলগ্ন বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে নগরীর দর্শনীয় স্থানে পরিবেশিত চলচ্চিত্রটি উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাগণ আগ্রহ ভরে উপভোগ করেন। অনেক দর্শক এ ধরণের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তোলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকা বর্তমানে মাদকে সয়লাব। শহর, বন্দর, গ্রাম সর্বত্রই আজ মাদক নীলথাবা বিস্তার করেছে। এমন কোন এলাকা নেই যেখানে মাদক নেই। হাত বাড়ালেই মিলে মাদক। প্রতিদিন হরেকরকম মাদকের চালান দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাচ্ছে। কৌশলে তোলে দেয়া হচ্ছে পথশিশু থেকে শুরু করে কিশোর কিশোরী, তরুন তরুনীসহ সকল বয়সী মাদকসেবীদের হাতে। মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদকের এমন ভয়াবহ চিত্রের প্রেক্ষাপটে এ ধরণের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী খুবই যুগোপযোগী সাংস্কৃতিক সচেতনামূলক কর্মকান্ড বলে তারা মনে করেন।
প্রদর্শনী স্থলে দেখা যায়, জয়নুল উদ্যানে অবস্থিত এই বধ্যভূমি স্থলটি চারদিকেই উন্মুক্ত খোলামেলা। এমন খোলামেলা স্থানে গাছের বেদীতে পর্দা টানিয়ে সংগঠনটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। কোন আসন ব্যবস্থা ছিল না। আগত দর্শক-শ্রোতাগণ দাঁড়িয়েই উপভোগ করেন এ প্রদর্শনীটি। প্রদর্শনী স্থলে ছিল আনন্দ উৎসবের আমেজ। এভাবে প্রতিমাসে বিষয়ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আয়োজক সংগঠনটি জানায়।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মাদকে ধ্বংস হচ্ছে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ জাতি অপরদিকে মাদক ব্যবসা করে অবৈধ টাকার কুমির হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতারা।
মাদকের কারণে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। এতে দিনদিন অবনতি ঘটছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। কখনো কখনো মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ খুনাখুনিতে লিপ্ত হচ্ছে। তরুন প্রজন্মের একটি বৃহৎ অংশ আজ মাদকাসক্ত। একজন মাদকসেবী স্বাভাবিক জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। মাদকের নেশার কারণে অন্যদের সাথে তার স্বাভাবিক সম্পর্কটা থাকে না। মাদকের নীলথাবায় ধ্বংস করে ফেলে নিজেকে। একটি পরিবারে একজন মাদকাসক্তের কারণে সে পরিবারের শান্তি চলে যাচ্ছে নির্বাসনে। মাদকাসক্ত সদস্যটি মাদক ক্রয়ের অর্থ জোগানো জন্য পিতামাতার উপর চাপ সৃষ্টি করে। অর্থ না পেলে উগ্র মেজাজে ঘরে ভাংচুর চালায়। কখনো কখনো মাদকাসক্ত সন্তান জন্মদাতা পিতামাতাকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। এমন লৌহমর্ষক ঘটনার খবর মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে উঠে আসে। কখনো কখনো অতিষ্ঠ হয়ে অসহায় পিতা মাদকাসক্ত সন্তানকে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমরা জানতে পারি। মাদকাসক্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ার কারণে সমাজে ধর্ষণ, নারী উত্যক্তকারীর সংখ্যাও বেড়ে গিয়েছে। চলার পথে আজ কোন নারী নিরাপদ নয়। সমাজে ধর্ষণ, নারী উত্যক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছেনে রয়েছে মাদকের কুপ্রভাব। মাদকের এই সার্বিক চিত্রের আলোকে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আজ মাদকবিরোধী চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রতিমাসেই বিষয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
মন্তব্য