সব
ময়মনসিংহের সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন এর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার,
শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের এমপিও, শুন্য পদের অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে হয়রানি থেকে শুরু করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন ফাইল আটকে রেখে অফিসিয়াল কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় চলছে স্থানীয় শিক্ষা মহলে।
অফিস সহায়ক নাসিরকে সন্তুষ্ট করলে অবশ্য খুব সহজেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যায় এমন অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে তিনি এখানে যোগদানের পর থেকেই নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসা সুপার আতাহার আলী,নাসিরাবাদ দাখিল মাদ্রাসা সুপার শফিকুল ইসলাম, মেসবাহুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা সুপার —-,গোস্টা দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবু ঈশা পান্না,চর বড়বিলা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মতিউর রহমান ঘাগড়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার দেলোয়ার হোসেন শিবলীসহ আরো অনেকের অভিযোগ, সদর উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তি,নাম কর্তন,শুন্য পদ বাস্তবায়ন ফাইলসহ শিক্ষকরা নিয়ম অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে তাদের এসব ফাইল আটকে রাখেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনা রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে কোনো ফাইল ৭২ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা যাবে না তবুও সদর উপজেলার এই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃত শিক্ষকদের ফাইল আঁটকে রাখেন, দীর্ঘ হয়রানির পর তার অফিসের সহকারী নাসির কে সন্তুষ্ট করলে নাসির বলার পর তিনি ফাইল অনুমোদন করেন। নাসির কে টাকা না দিলে তাদের ফাইল অনুমোদন না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয় এমন অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকরা। শুধু এটিই শেষ নয় পরবর্তীতে এমপিও কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও ইএফটি আবেদনেও একইভাবে পুনরায় নাসিরের মাধ্যমে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
জানা যায়, নিয়মিত অফিস করেন না শিক্ষা অফিসার, এমনকি অফিসে এলেও ফিল্ডে না গিয়ে নামমাত্র উপস্থিতি দেখিয়ে ফিরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকদের এমপিও সংক্রান্ত কাজে ঘুষ দাবি, বিলম্বিত স্বাক্ষর এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাইল আটকে রাখার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত থেকে শিক্ষকদের নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমন অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসিয়াল কন্টিজেন্সির অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালন না করার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটে থাকায় পাঠদানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে , তবুও অনেকেই প্রকাশ্যে অফিসারের অপসারণ দাবি করেন।
মেজবাহুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার অভিযোগ করেন-তার মাদ্রাসার এক নারী শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে তার পদত্যাগ পত্র অনুমোদনের জন্য জমা দিলেও শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন তা অনুমোদন না করে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে উল্টো উদ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে সুপার—কেই ধমকানো শুরু করে শিক্ষা অফিসার।
ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার আতাহার আলী জানান-তার মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার এক জুনিয়র শিক্ষক সহকারী শিক্ষক পদে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরী পাওয়ায় পদটি শুন্য ঘোষণার জন্য ফাইল জমা দিলেও ফাইলটি অনুমোদন না দেওয়ায় শুন্য পদে তিনি নিয়োগ দিতে না পারায় মাদ্রাসায় পাঠদানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফাইল অনুমোদনের জন্য তিনি শিক্ষা অফিসারের কাছে তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাকে অপমান করেন শিক্ষা অফিসার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড.ইদ্রিস খান বলেন, “শিক্ষা অফিসারের আচরণ সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত, এতে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।” ভুক্তভোগী শিক্ষক মতিউর রহমান জানান, “আমার ফাইল ৩-৪ মাস ধরে ঘুরিয়েছে, একবার অফিসে, একবার বাসায় যেতে হয়েছে। আদো পর্যন্ত কাজটি হয়নি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।” স্থানীয় শিক্ষক সমাজের দাবি, তদন্ত করে সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি ও হয়রানি মুক্ত রাখতে হবে।
মন্তব্য