বৃহত্তর ময়মনসিংহের ১৮৬ বছরের পুরোনো কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীর অবস্থান সুসঙ্গ দুর্গাপুরে। সুসঙ্গ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ দুর্গাপুরের মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্মা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। পাঠাগারের কার্যক্রম কোন রকমে চললেও কালের বিবর্তনে পাঠাগারের জায়গা গুলো বে-দখল হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে দুর্গাপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগনের আয়োজনে প্রাচীণতম এই পাঠাগারের জায়গা উদ্ধারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (০৭ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বে-দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার এবং বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান সহ পাঠাগারটি পুনঃ চালু করার জন্য গত ০৫ এপ্রিল উক্ত লাইব্রেরী পরিদর্শনে আসেন এবং পাঠাগারটিকে পুনরায় চালু করে এখানে স্থানীয় যুবকদের জন্য উদ্দ্যোগ নিয়েছেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা- ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে একটি বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি।
এনিয়ে আদিবাসী নেত্রী বিশাকা রাংসা বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের অনেক আইনজীবী, জ্ঞানীগুনী, সাহিত্যিক সকলেই এই লাইব্রেরীতে আসতেন বই পড়তে। ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটি এখন অযত্ন অবহেলায় পরে থাকার কারনে স্থানীয় ভূমি খেকোরা পাঠাগারের অধিকাংশ জায়গা বে-দখল করে নিয়েছে। বাউন্ডারী দেয়াল না থাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে। আসবাবপত্র, চাহিদা মোতাবেক বইক্রয় সহ পাঠাগারের আয়-বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে পাঠাগারটি। বেদখলকৃত জায়গা উদ্ধার করতে জোর দাবী জানাচ্ছি।
কবি লোকান্ত শাওন বলেন, পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি যদি আবার সচল হয় তাহলে, স্থানীয় যুবসমাজ উপকৃত হবে। মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে। বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর তথা কলমাকান্দা উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। সাহিত্যপাঠকদের কথা ভেবে নিভু নিভু অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা পাঠারগারটিকে জাগিয়ে তুলতে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যেভাবে এগিয়ে এসেছেন এর জন্য দুর্গাপুরবাসীর পক্ষ থেকে ওনাকে ধন্যবাদ জানাই।
দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মোহন মিয়া বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠাগারের বিকল্প নেই। জ্ঞান অর্জনের উৎস হলো বই। বর্তমান মানুষের চিন্তা, চেতনা, গবেষণা জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের পাতায় পাতায়। আর বইয়ের সু-শৃঙ্খল সমাবেশ স্থানই হলো পাঠাগার। দুর্গাপুর উপজেলার ১৮৬বছর পুরনো কুমার পাবলিক দ্বীজেন্দ্র লাইব্রেরীর বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করে পাঠাগারের প্রাণ সঞ্চার করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত সাংবাদিকদের বলেন, আমি অত্র উপজেলায় সদ্য যোগ্যদান করেছি। এই পাঠাগারটি খুবই প্রাচীণতম, ইতোমধ্যে পাঠাগার পরিদর্শন করেছি এবং পরিচালনা কমিটির সদস্য, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করেছি। পাঠাগারের জায়গাও পুনরায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এনিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), জেলা প্রশাসক ও মাননীয় ডেপুটি স্পীকার স্যারের সাথে কথা বলে জরুরী ভিত্তিতে বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধার করে লাইব্রেরী সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য