সব
চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ডাকেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা ডাকা হয়।
উদ্দেশ্য ছিল মান-অভিমান দূর করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। কিন্তু সভা না করে সংবাদ সম্মেলন করায় তোপের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের। তাকে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন ছাত্রনেতারা। ফলে ঐক্যে বৃদ্ধির এই আয়োজনে ফের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বক্তব্য শেষ না করেই সভাস্থল ত্যাগ করেন ওবায়দুল কাদের। এর আগে গত ২৫ জুলাই তেজগাঁওয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সমন্বয় সভাতেও ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা হয়।
অন্যদিকে ছেলের ফেসবুক পোস্টের জেরে মতবিনিময় সভায় সাবেক ছাত্রনেতারা সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রাজ্জাককেও অপদস্থ করেন।
জানা গেছে, রাজ্জাকের ছেলে রেজোয়ান শাহরিয়ার সুমিত ছাত্রলীগকে ব্যঙ্গ করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, যা পরে ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিম-লীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পর সাবেক ছাত্রনেতাদের মতবিনিময় সভা হবে, এমন খবরে সাবেক ছাত্রনেতা ছাড়াও আওয়ামী
লীগের বর্তমান ও দলের সহযোগী সংগঠনের বর্তমান নেতারা নির্ধারিত সময় বেলা ১১টার আগেই উপস্থিত হন। কিন্তু সভাস্থলে এসে মতবিনিময় না করেই সংবাদ সম্মেলন করেন ওবায়দুল কাদের।
এ সময় ছাত্রনেতারা বিরক্ত হন। একে অন্যের সঙ্গে বলতে থাকেন, আগের প্রোগ্রামগুলোতেও মতবিনিময় সভার কথা বলে নিজে কথা বলে চলে গেছেন। তাহলে এখানে এসে লাভ কী। তখন ছাত্রনেতারা উচ্চৈঃস্বরে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে থাকেন, মতবিনিময় সভা ডেকে সংবাদ সম্মেলন করলে আমাদের ডাকলেন কেন? এরপর শুরু হয় হট্টগোল। পেছনের সারিতে থাকা নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের শান্ত হতে বলেন এবং কেউ ভিন্ন আচরণ করলে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন। তার এই কথায় হট্টগোল আরও বেড়ে যায়।
সাবেক একজন ছাত্রনেতা বলেন, গত ১৫ বছরের অনিয়মের বিস্ফোরণ হচ্ছে। কেউ আসলে কাদের ভাইর গতানুগতিক বক্তৃতা শুনতে চায় না। কর্মীরা মনে করে গত ১৫ বছর যারা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের অধিকাংশই কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত, ব্যর্থ। এদের কারণেই দলকে আজ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে। দ্রুত দল পুনর্গঠন না করলে আগামীর ধাক্কা সামাল দেওয়া যাবে না।
সভায় উপস্থিত আরেক ছাত্রনেতা বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নেতাকর্মীরা মাঠে নেই। এরপরও শীর্ষনেতারা এর কারণ উপলব্ধি করতে পারেননি। তারা কারও কথাও শুনতে চান না। নিজেদের বলয় নিয়ে চলেন।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, বাহাদুর বেপারী, অজয় কর খোকন, জাকির হোসেন মারুফ, নজরুল ইসলাম বাবু, লিয়াকত শিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী পোটন, বদিউজ্জামান সোহাগ, সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাইফুর রহমান সোহাগ, জাকির হোসাইনসহ অন্তত দেড় শতাধিক ছাত্রনেতা।
মন্তব্য