সব
বাসায় লিভ টুগেদারের সুযোগ দিয়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে হত্যা, ১৫ দিনের মধ্যে পিবিআই ময়মনসিংহ কর্তৃক রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার ও ভিকটিমের মোবাইল উদ্ধার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ।
গত ২৮/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানাধীন এলাকায় নিজ বাড়িতে হত্যাকান্ডের শিকার হন নূরজাহান (৬০)। নির্জন বাড়ি হওয়ায় ৩০/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে বাড়ির রান্না ঘরের পাশে খড়ে ঢাকা অবস্থায় পরিবার কর্তৃক লাশ খুজে পাওয়া যায়। এই সংক্রান্তে ভিকটিমের মেয়ে নুরুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন । (মামলা নং-৯০, তারিখ-৩১/০১/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড)
থানা পুলিশের তদন্তাধীন অবস্থায় পিবিআই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। গত ১৬/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে এসআই(নিঃ) অমিতাভ দাসকে তদন্তভার প্রদান করে।
গত ০২/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামী মোঃ রনি মিয়া(২৬)কে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার শম্ভুগঞ্জ এলাকায় তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, আসামী রনি মিয়া পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি এবং ভিকটিমকে সে “নানী” বলে সম্মোধন করতো। সে প্রায়ই ভিকটিম নূরজাহান এর বাড়িতে তার প্রেমিকা-কে নিয়ে সময় কাটাতে আসতো এবং এর বিনিময়ে ভিকটিম কে ঘরভাড়া দিতো। ঘটনার দিন নূরজাহান ধৃত আসামী রনি’র কাছে পূর্বের বকেয়া ৫০০ টাকা দাবী করে এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করলে তিনি রনি’র এই অসামাজিক কার্যকলাপ এর তথ্য তার পরিবারকে অবগত করবেন মর্মে হুমকি দেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে আসামী রনি রান্নার কাজে ব্যাবহৃত “পাটার শিল” দ্বারা নূরজাহান এর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং মৃতদেহটি রান্নাঘরে খড় দিয়ে ঢেকে রেখে দেয়। আসামী রনি যাবার সময় ভিকটিমের এর বাটন মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়।
আসামী রনি মিয়াকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য