সব
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়ায় যুবদল নেতার ছোট ভাই রুবেল পালোয়ানকে (২৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ৩০শে এপ্রিল রাতে বালিপাড়া স্টেশন রোড এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ইজারা মহলের ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে যুবদলের কার্যালয়সহ একটি ইজারা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনন্দমোহন কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল পালোয়ান তার বড় ভাই হারুন অর বাদল (বালিপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক, যুবদল নেতা ও বিগত সরকারের সময়ে ২৭টি রাজনৈতিক মামলার আসামী) এর ইজারা মহলের নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিহারী পট্টি এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিবাদী আব্দুস সাত্তার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ সোহাগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মইনুল হাসান তারেক ও তানজিলসহ ১০—১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার পথরোধ করে।
পরে ১নং বিবাদী আব্দুস সাত্তারের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রুবেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মোস্তাক আহমেদ সোহাগ দা দিয়ে রুবেলের মাথায় কোপ দিলে তা কপালের ডান পাশে লেগে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া লোহার রড ও পাইপের আঘাতে তার ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত করা হয়। হামলার এক পর্যায়ে রুবেল অচেতন হয়ে পড়লে বিবাদীরা তার পকেট থেকে ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর, রাত সোয়া ৮টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় বালিপাড়া স্টেশনে অবস্থিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালায়। সেখানে তারা জাতীয় নেতাদের ব্যানার ও ছবি ছিঁড়ে ফেলে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এরপর বালিপাড়া বাজারের ইজারা অফিসে হামলা চালিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। প্রথমে রুবেল পালোয়ানকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত রুবেলের বড় ভাই মামুনুর রশিদ মামুন বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০—১২ জনকে বিবাদী করে ত্রিশাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহাম্মদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি।
মন্তব্য