সব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নে মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। নিরাপদ সমাজ গড়তে এসব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘নিরাপদ সমাজ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার ১৮ অক্টোবর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নের সিরতা বাজারে মাদক ও জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ও জুয়া একটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। এর ফলে আর্থিক ক্ষতি, পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেও এসব অপরাধ মোকাবিলা করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে মাদক, জুয়া এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা ও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পরিবার, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিরতা ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো তরুণ যেন মাদক বা জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে, সে জন্য অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। একই সঙ্গে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রচলিত আইন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল আহম্মেদ, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ইয়াহিয়া হোসেন শাহীন, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল চেয়ারম্যান , মো. শাহজাহান মাস্টার।
স্বাগত বক্তব্য দেন কোতোয়ালী থানা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন কোতোয়ালী থানা বিএনপির সদস্য আলী হোসেন, ৫নং সিরতা ইউনিয়ন বিএনপির মো. আল মামুন ও মো. মোস্তাকিন হোসেন এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন শামীম।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন, কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুল আলম।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অপরাধ থেকে দূরে রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার বিষয়ে অভিভাবক ও তরুণদের সচেতন করা এবং অপরাধের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়ে জনসাধারণকে উৎসাহিত করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, ইভটিজিং প্রতিরোধে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কোতোয়ালী থানা বিএনপির সদস্য ও ৫নং সিরতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ৫নং সিরতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসলাম আলী খোকন।
আলোচনা সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করবে এবং তরুণ সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তাঁদের মতে, পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মাদক ও জুয়ামুক্ত, নিরাপদ এবং মানবিক সিরতা ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে, এমন প্রত্যাশা সভায় উঠে আসে।
মন্তব্য