সব
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার ১নং মেন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাকিমের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, অনিয়ম-দুর্নীতি, উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে তিনি অনেকটা ‘রামরাজত্ব’ কায়েম করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ আত্মসাৎ এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়মের ঘটনায় অতীতেও তিনি স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত হয়েছেন। এসব ঘটনায় গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগের এই নেতা কীভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, ‘কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে’ বিতর্কিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে। তাদের দাবি, এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতা বলেন, আবু হাকিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নে ভূমিকা রেখেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অপরদিকে চেয়ারম্যানের বিরোধিতাকারী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজনকে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। তাদের দাবি, অন্তত শতাধিক পরিবার তার প্রভাব ও মামলার হয়রানির শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠতার কারণে আবু হাকিমের প্রভাব অটুট রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে, বয়োবৃদ্ধ জাবেদ মিয়া বলেন, ‘চেয়ারম্যান আবু হাকিমের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ইউনিয়নে কারও নেই।’ তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সম্প্রতি চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে বাদী করে তার নিজের ভাই, ভাতিজা ও ভাতিজির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি হয়রানিমূলক বলেও দাবি করেন তিনি।
জাবেদ মিয়ার প্রশ্ন, ‘যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, তিনি এখনও কীভাবে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন—এটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান আবু হাকিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এবিষয়ে খালিয়াজুড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঠোফোনে কাল্পনিক, মিথ্যা মামলা রুজু করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তে সত্যতা না পেলে চুড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যাবে। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান আবু হাকিমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খালিয়াজুড়ি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা রুজু করা হয়না, যাদের বাদী আছে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মন্তব্য