ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর হাসমত উল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, রেকর্ড সংশোধনের কাজ দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা এবং অভিযোগ উত্থাপনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় এক বছর আগে একটি মিসকেসভুক্ত রেকর্ড সংশোধনের জন্য হাসমত উল্লাহর সঙ্গে তার ও জুয়েল নামের এক ব্যক্তির দেড় লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তির দিনই হাসমত উল্লাহ নগদ এক লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং অবশিষ্ট টাকা কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল।
বাচ্চু মিয়ার দাবি, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে এক পর্যায়ে হাসমত উল্লাহ জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। জুয়েল ৯ হাজার টাকা বিকাশে পাঠালে তিনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড সংশোধন সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক চাপাচাপির পর একটি হিস্যার সংশোধিত খতিয়ান দেওয়া হলেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে সাংবাদিকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে হাসমত উল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, টাকা নিলেও সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে দেয়া হয়েছে এবং অভিযোগকারীদের পুরো বক্তব্য সঠিক নয়। তবে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগকারীদের ‘দালাল’ বলে উল্লেখ করেন।
আলোচনার সময় সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি উপহাস করে বলেন আগেও দুই সাংবাদিক আসছিলো!
সাংবাদিক সমাজ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। কথোপকথনে তিনি সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের কাছে টাকা লেনদেনের বিকাশ সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য নথিপত্র রয়েছে। এসব নথি দেখানো হলে হাসমত উল্লাহ সেগুলোকে ‘এআই দিয়ে তৈরি’ বলে দাবি করেন। পরে আবার তিনি বলেন, ৯ হাজার টাকা কেউ ভুলবশত পাঠিয়েছিল, যা তিনি ফেরত দিয়েছেন।
ঘটনার আরও বিস্ময়কর দিক হলো, অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগেই হাসমত উল্লাহ ‘জন্মভূমি বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে বাচ্চু মিয়া, জুয়েল এবং সাংবাদিক শেখ অনিন্দ্য মিন্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই পেজটি ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির দায়িত্ব পালনকালে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যক্তিগত স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই দালালচক্র, দীর্ঘসূত্রতা ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের চাপের মুখে পড়তে হয়। তারা এ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
সম্ভাব্য আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা
যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে-
বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা; সাময়িক বরখাস্ত; চাকরিচ্যুতি; সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ড;
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত;
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা;
সাইবার হয়রানি, মানহানি ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগে পৃথক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আর্থিক লেনদেন যাচাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কনটেন্টের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য