সব
ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলার সীমান্তবতীর্ কানিহারী ইউনিয়নের বিয়ার্তা গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মোরগী খামারি হোসাইন আহমেদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের বিয়ার্তা ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ‘নূর এগ্রো ফার্মে’—এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও খামারের মালিক সূত্রে জানা যায়, মূহুর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে তার মুরগীর খামারে। আর এতে তার সাতশতাধিক মুরগী ও দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত উৎপাদিত ডিম পুড়ে ছায় হয়ে যায়। খামারের কর্মচারি হ্নদয়ের চিৎকারে এলাকাবাসি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে খামারি হোসাইন আহমেদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খামারের মালিক হোসাইন আহমেদ জানান, ঘটনার সময় খামারে প্রায় দুইহাজার মুরগি ছিল। আগুনে পুড়ে গেছে সাতশতাধিক মুরগি। বাকি মুরগিগুলোও ধোঁয়া ও উত্তাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া খামারে বিক্রির জন্য সংরক্ষিত ৬শত কেস ডিম আগুনে ও প্রচন্ড তাপে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আর্তচিৎকারে বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেল। চোখের সামনে জীবন্ত মুরগিগুলো পুড়ে মরল, কিছুই করতে পারলাম না। ডিমগুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমার আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরো জানান, কেবল নিজের পুঁজি নয়, বরং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ত্রিশাল শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এই ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছিলাম। ঋণের টাকা পরিশোধের চিন্তায় এবং এই বিশাল লোকসানে বর্তমানে আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। খামারটিই ছিল তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। তিনি আরো বলেন, অবর্ণনীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জরুরি আর্থিক সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনের দাবি আমার।
এ ব্যপারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ত্রিশাল শাখার ব্যবস্থাপক কাউসার আহমেদ জানান, শুনেছি হোসাইন আহমেদ সাহেবের মুরগীর খামারে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়—ক্ষতি হয়েছে। দেখা যাক কি করা যায়।
মন্তব্য