সব
আসন্ন ইদকে সামনে রেখে ময়মনসিংহবাসীর নিরাপত্তায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটি। ১১ মার্চ বুধবার সকালে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, আহত, চুরি, মাদক, রাহাজানি, অপমৃত্যু, দাঙ্গা, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি অপরাধ নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, গোয়েন্দা, জনপ্রতিনিধি, সিভিল সংগঠন-সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে জোরালোভাবে কাজ করতে মতামত ব্যক্ত করেন উপস্থিত সদস্যবৃন্দ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানানো হয় সভায়।
মাদক নির্মূলে ঔষধের দোকানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসনের সাথে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের কাজ করা উচিত বলে মতামত দেন অনেকেই। সাম্প্রতিক সংকটে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের কালোবাজারি ও বাজার দর নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত মনিটরিংয়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয় সভায়। সেইসাথে চোরাই পথে খোলা তেল আসা ও বিক্রির বিষয়টিও বিজিবি ও প্রশাসনকে সীমান্তের পয়েন্টগুলোতে আরো সতর্ক থাকতে বলা হয়। ব্যবসায়ীরা তেল নিয়ে যেন কালোবাজারি করতে না পারে, সেজন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করার অভিমত ব্যক্ত করেন অনেকেই।
সভায়, ইদকে কেন্দ্র করে বাসের টিকিট ও ভাড়ায় কালোবাজারি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। কোনো যাত্রী যেন বাস যাত্রায় ধোঁকায় না পড়ে সেকারণে মালিকদের নিয়ে দ্রুতই মিটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনিয়ম করলে অভিযোগ দেওয়ার জন্য প্রতিটি বাসে অভিযোগ মোবাইল নম্বর বা হটলাইন নম্বর সংযোজন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ময়মনসিংহ বিভাগেও কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভাপতির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি বলেন, ৫ই আগস্টের আন্দোলনের সময় নিরাপত্তার বলয় স্বরূপ ময়মনসিংহ সিটির ভেঙে যাওয়া ও অচল হওয়া সিসি ক্যামেরাগুলো শীঘ্রই সচল করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুতই সচল করতে সক্ষম হবো। যানজট, ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এসব নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকেই নির্দেশনা দিচ্ছি। সমন্বিত সিদ্ধান্ত আমাদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সভায় অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আবু বকর সিদ্দীক-সহ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, বিজিবি সেক্টর কমান্ডার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও জামালপুর জেলার জেলা প্রশাসক, র্যাব ১৪ এর অধিনায়ক, আনসার ও ভিডিপি এর উপমহাপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক, এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক, ডিজিএফআই’র অতিরিক্ত পরিচালক, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি ও অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য