সব
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জাল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলা প্রত্যাহার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জাল হোসেনকে আটকে রেখে মারধর ও রশি দিয়ে বেঁধে রাখার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজন তোফাজ্জাল হোসেনকে একটি বাড়িতে আটক করে মারধর করেন এবং রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। এ সময় আশরাফুল আলম নামে একজন সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তোফাজ্জাল হোসেনের পরনের আকাশি রঙের শার্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৯টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সবুজ ও দুটি গোলাপি রঙের ইয়াবা ছিল। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় দুই গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দের কথাও বলা হয়েছে।
পরে ৯ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। এরপর আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিক তোফাজ্জাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সাংবাদিক তোফাজ্জালের সহকর্মী ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরা ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তোফাজ্জালকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এরপর আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলের ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, জব্দতালিকা, উদ্ধার করা মাদকের পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং পুলিশের কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, আইন সবার জন্য সমান। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তাঁরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর বা আটকে রাখার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করতে হবে।”
মানববন্ধনে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আমিন, গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরাসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
মন্তব্য