সব
সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনার মদনে ৬৩ টন সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনায় দুর্নীতিগ্রস্ত ‘সেই’ দুই কর্মকর্তাকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সরেজমিন তদন্ত ও মাঠ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর খাদ্য অধিদপ্তর এ ব্যবস্থা নিয়েছে।
মহাপরিচালকের নির্দেশে সংস্থাপন বিভাগ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া ও গুদাম ইনচার্জ মো. মাহমুদুল আলমকে আলাদা আদেশে প্রত্যাহার করে। বুধবার ২০ মে রাতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলালকে মদন থেকে প্রত্যাহার করে বরগুনার পাথরঘাটায় সংযুক্তের আদেশ জারি করা হয়। মঙ্গলবার অপর আদেশে ওসিএলএসডি আলমকে প্রত্যাহার করে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী টিপিসিতে।
নেত্রকোনাসহ খাদ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মহাপরিচালক মু: জসীম উদ্দিন খান বুধবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, মদন খাদ্য গুদামে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের পর শিগগিরই বিভাগীয় মামলা শুরু হবে। তিনি বলেন, সন্দেহজনক প্রতিটি গুদামের ওপর বিশেষ নজরদারি চলছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজরা কেউ ছাড় পাবেন না। যে যত বড় ক্ষমতাধর হোক না কেন পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা যায়, বুধবার রাতে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের সংস্থাপন শাখার উপ-পরিচালক অনির্বাণ ভদ্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়াকে প্রত্যাহার করে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় সংযুক্ত করার আদেশ জারি করেন। তার স্থলে যোগদান করবেন গাইবান্দার সাদুল্লাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আরফান আলী। আগের দিন মঙ্গলবার অপর আদেশে দুর্নীতিগ্রস্ত ওসিএলএসডি মাহমুদুল আলমকে প্রত্যাহার করে পটুয়াখালীর দশমিনার বড় গোপালদী টিপিসিতে সংযুক্ত করা হয়। মদন গুদামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আনিসুর রহমানকে। মঙ্গলবার রাতে তিনি দায়িত্ব নেন। এর আগে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। এদিকে বুধবার থেকে স্বাভাবিক হয়েছে মদন খাদ্য গুদামের সব কার্যক্রম।
সূত্র জানায়, নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের গঠন করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার প্রতিবেদন জমা দেয়। বিকালেই মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম। মঙ্গলবার সকালে তিনি মদন খাদ্য গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে ঢাকায় সম্ভাব্য ওসিএলএসডির নাম পাঠান। অন্যদিকে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অভিযুক্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডির বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে না মর্মে কৈফিয়ত তলব করেন। তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন গতকাল বলেন দুর্নীতির রিরুদ্বে ডিপার্টমেন্ট কঠোর অবস্হানে রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে কেউ ছাড় পাবে না।
অধিদপ্তরের পরিচালক ( প্রশাসন) রেজা মোহাম্মদ মোহসিন এর কাছে গতকাল দুপুরে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন তদন্ত রিপোর্ট ডিজি স্যারের কাছে রয়েছে। এর বেশি তিনি কথা বলতে রাজি হয়নি।
মহাপরিচালক ( ফাইল ছবি)
মন্তব্য