সব
জাতীয় নির্বাচনের দিন ভোটারদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তর সালের যুদ্ধের মতো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। তাহাজ্জুদ পড়ে ধানের শীষের জন্য দোয়া করবেন এবং ফজরের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেবেন। শুধু ভোট দিলেই হবে না, কড়ায়-গন্ডায় ফলাফল বুঝে নিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জনসভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবার জনগণের সরকার কায়েম হবেই বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১ সালের যুদ্ধের মতো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। তাহাজ্জুদ পড়ে ধানের শীষের জন্য দোয়া করবেন এবং ফজরের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেবেন। শুধু ভোট দিলেই হবে না, কড়ায়-গন্ডায় ফলাফল বুঝে নিয়ে আসতে হবে। এর আগে যারা ভোট লুটপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার সতর্ক থাকতে হবে।’
যারা স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপিকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বলছে তাদের কাছে প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালের জোট সরকারে তাদেরও তো দুজন মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি যদি এতই খারাপ হতো, তবে তারা কেন তখন পদত্যাগ করেননি? তারা পদত্যাগ করেননি কারণ তারা জানতেন, বেগম খালেদা জিয়া কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর দেশ দুর্নীতি থেকে বের হয়ে এসেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যেই ভোটের অধিকারের জন্য গত ১৬ বছর মানুষ গুম, খুন, অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং জুলাই মাসে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেই অধিকার প্রয়োগের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি। মানুষের কথা বলার ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতেই ভোটের অধিকার ফেরাতে হবে। গত ১৬ বছরে ময়মনসিংহের মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি। কারণ তখন নিশিরাতের ভোট এবং আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছে, জনগণের ভোট হয়নি।’
ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য বিএনপির বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ময়মনসিংহের মাছের পোনা বিদেশে রফতানির পরিকল্পনা আছে বিএনপির, যাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। আমরা নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দিতে চাই। কৃষকরা যাতে মজবুত অর্থনীতির ওপর দাঁড়াতে পারেন, সে জন্য অন্তত একটি ফসলের বীজ ও কীটনাশক সময়মতো তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে।”
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ময়মনসিংহকে মাদকমুক্ত করতে দক্ষ তরুণ সমাজ গড়া হবে এবং মানুষ যাতে ঘরে বসেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায়, বিএনপি তা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
জনসভায় অন্য দলের কড়া সমালোচনা না করে কাজের রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক দল অন্য দল সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলে। আমি যদি এখানে অন্য দলের গিবত গাই বা সমালোচনা করি, তবে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণ তাকেই ভোট দেবে, যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। আর জনগণের জন্য কাজ করার পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে। দুর্নীতির লাগাম টানার অভিজ্ঞতাও আমাদের আছে।’
মন্তব্য