ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলাদলের প্রচার সম্পাদক শিরিনা আক্তারকে হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগরীর আলমগীর মুনসুর মেমোরিয়াল (মিন্টু) কলেজ এলাকা থেকে দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ত্রিশালের ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শামীমকে হানিট্র্যাপের অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা রুজু হয়। যার নং-৮২ তাং ২৯/২৬।
উল্লিখিত মামলায় এর আগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও অভিযোগের মূল পরিকল্পনাকারী শিরিনা আক্তার পলাতক ছিল। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সাফায়েত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে (৭ জুলাই) শিরিনাসহ ২জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারের পর ত্রিশালের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারীদের ব্যবহার করে পুরুষদের ফাঁদে ফেলে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত। তাদের অভিযোগ, শিরিনা আক্তার ওই চক্রের মুলহোতা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, এর আগে ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকা থেকে শফিকুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অন্তরকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল শিরিনা চক্র।
আরো জানা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের সামাল মেম্বারের ছেলে শামীম বলেন, শিরিনা ও ঝর্ণা আমাকে ধর্ষণের মতো স্পর্শ কাতর মিথ্যা মামলায় ফাঁসায় বলে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।
ত্রিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন কর্মী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তিতে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুনে বিব্রত হয়েছিলেন ত্রিশালবাসী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোড় দাবী জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ত্রিশাল বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ত্রিশালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দল বদ্ধপরিকর। যদি কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বাঘমারা একটি বাসায় হানিট্র্যাপের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় হানিট্র্যাপ মামলার এজাহার নামীয় আসামী শিরিনাসহ দুইজনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ নগরী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই মামলায় তিনজনসহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরো জানান, এই হানিট্র্যাপ চক্রটি বিশাল বড়। এর সাথে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। এদেরকে ওয়াইট কালার অপরাধী বলা যায় কারণ দেখতে সবাই ভদ্রবেশী কিন্তু তাদের কৃতকর্ম ব্ল্যাক কালার।
মন্তব্য