সব
ঢাকার পল্লবীতে আলোচিত যুবদল নেতা ও থানা সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলার অন্যতম দুই শুটারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। অভিযানে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর অপরাধ উদঘাটনে কাজ করে আসছে বাহিনীটি।
গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায় মিরপুর-১২-এর ব্লক-বি এলাকায় বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকে দুর্বৃত্তরা গোলাম কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। হামলার সময় পালিয়ে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে এক রিকশাচালকও গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
ঘটনার পরপরই র্যাব-৪ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই শুটার দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ মার্চ মধ্যরাতে পৃথক অভিযানে রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে মোঃ রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে লোপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিজেদের শনাক্ত করে এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। তারা আরও জানায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং এতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার শুটার এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা রয়েছে।
এর আগে, একই মামলায় গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মনির হোসেন ওরফে সোহেল, পাতা সোহেল ও সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৪।
র্যাব জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা কেউই ছাড় পাবে না, জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য