ঢাকা রাত ১১:১২, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ময়মনসিংহে ওয়ালটনের একটি ফ্রিজ কিনে আরেকটি ফ্রিজ উপহার পেয়েছেন আলম সাংমা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধাঞ্জলি, গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার অঙ্গীকার ফুলবাড়ীয়া এপি’র সামাজিক ক্ষমতায়নে দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালা ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত এমপি’র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বিজিবি সীমান্তে রাতভর অভিযানে ০৩ কোটি টাকার ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইমনের মুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের দপ্তর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ ময়মনসিংহে বাস-সেনাবাহিনীর ট্রাকের সংঘর্ষ; নিহত-৩, আহত অন্তত-১৩ প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার; হত্যা নাকি আত্মহত্যা! দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেতন-ভাতা ও সুবিধা কী ফুলবাড়ীয়া এপি’র সামাজিক ক্ষমতায়নে দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালা মন্ত্রিসভায় জায়গা হলো না যেসব হেভিওয়েট নেতার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ‘টেন টপস’ বাস চালানোর অভিযোগ, আতঙ্কে যাত্রীরা ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনায় যারা ময়মনসিংহে জেলের জালে শিশুর মরদেহ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন সরকারের শপথ উপলক্ষ্যে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা একটি আসন ছেড়ে দিচ্ছেন তারেক রহমান ফুলপুর বওলা থেকে গৃহবধূ নিখোঁজ পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের হাওয়া: নতুন আইজিপি নিয়ে জোর গুঞ্জন আইজিপির পদত্যাগের খবর সঠিক নয়: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে জামায়াত আমিরের অগ্রিম শুভেচ্ছা মন্ত্রিপরিষদের নতুন সচিব এম সিরাজ মিয়া দুর্গাপুরে এক নারীর ঘরে থেকে গাঁজা উদ্ধার, তিন মাসের কারাদণ্ড দুর্গাপুরে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, মা-মেয়েসহ আহত ৪ জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকর

৭৫ বাংলাদেশ ডেস্ক।। আপডেটঃ বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ 14 বার পড়া হয়েছে

দৈনিক বাংলা সুত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বখ্যাত দর্শন হলো ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১৮ মাস দায়িত্ব পালন শেষে তিনি যখন বিদায় নিচ্ছেন, তখন দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তাঁর এই দর্শনের ঠিক বিপরীত চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এক বিশাল জনসমর্থন ও সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, ড. ইউনূসের শাসনামলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের যে সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, তা কাজে লাগাতে তিনি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে তিনি তাঁর সাফল্যের স্মারক হিসেবে তুলে ধরলেও এর নেপথ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও উৎপাদন খাতকে সংকুচিত করার এক নেতিবাচক কৌশল ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকই ছিল নিম্নমুখী। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল বায়েসের মতে, একজন অর্থনীতিবিদ সরকার প্রধান হওয়ার পর প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু বাস্তবে ব্যবসায়িক আস্থায় ধস নেমেছে এবং শিল্প উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর আমলে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ, যা এক বছর পর ২০২৫ সালে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে—যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

একই সাথে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ড. ইউনূসের সরকার নির্বাচিত সরকারের জন্য ২৩ লাখ কোটি টাকার এক বিশাল ঋণের বোঝা রেখে গেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ড. ইউনূসের আমলের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরিত ঋণের প্রায় ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের এই হার বর্তমানে বিশ্বে সর্বোচ্চ। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের চিত্রটিও বেশ করুণ। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার যখন সাড়ে ৮ শতাংশ, তখন মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ, মানুষের আয় যে হারে বেড়েছে, খরচ বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। অথচ বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস ৩৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের পরিসংখ্যান দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

গবেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে এবং আমদানি কঠোরভাবে সংকুচিত করে সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলে এই রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে, যা কোনো টেকসই সমাধান নয়।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টা পদের প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর শাসনামলে গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ এবং ব্যাংকে সরকারি শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এছাড়া গ্রামীণ ইউনির্ভাসিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসের জন্য জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি দ্রুততার সাথে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলাগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে খারিজ হয়ে যাওয়ায় বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি, যা তাঁর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল তাঁর আমলে দেশে সৃজিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল জনরোষ। বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিসে আগুন দেওয়া, সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করা এবং ভিন্নমতের কারণে সাংবাদিকদের কারারুদ্ধ করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তাঁর সরকারের অধীনে মাজার, মন্দির ও ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে পিটিয়ে হত্যার মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দেশের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য নথিপত্র এবং ভাস্কর্য বিনষ্টের সময়ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বিশ্বব্যাপী যে ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব প্রচার করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। বরং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ড. ইউনূস তাঁর এই তত্ত্বের নৈতিক ভিত্তি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কতটা ধরে রাখতে পারবেন। বিদায়লগ্নে এই বিশাল ব্যর্থতা ও ঋণের বোঝা তাঁর ১৮ মাসের শাসনের এক ধূসর অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

মন্তব্য

আপলোডকারীর তথ্য

মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল

আপলোডকারীর সব সংবাদ
শিরোনাম:
ময়মনসিংহে ওয়ালটনের একটি ফ্রিজ কিনে আরেকটি ফ্রিজ উপহার পেয়েছেন আলম সাংমা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধাঞ্জলি, গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার অঙ্গীকার ফুলবাড়ীয়া এপি’র সামাজিক ক্ষমতায়নে দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালা ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত এমপি’র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বিজিবি সীমান্তে রাতভর অভিযানে ০৩ কোটি টাকার ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইমনের মুক্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের দপ্তর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ ময়মনসিংহে বাস-সেনাবাহিনীর ট্রাকের সংঘর্ষ; নিহত-৩, আহত অন্তত-১৩ প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার; হত্যা নাকি আত্মহত্যা! দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেতন-ভাতা ও সুবিধা কী ফুলবাড়ীয়া এপি’র সামাজিক ক্ষমতায়নে দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালা মন্ত্রিসভায় জায়গা হলো না যেসব হেভিওয়েট নেতার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ‘টেন টপস’ বাস চালানোর অভিযোগ, আতঙ্কে যাত্রীরা ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনায় যারা ময়মনসিংহে জেলের জালে শিশুর মরদেহ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন সরকারের শপথ উপলক্ষ্যে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা একটি আসন ছেড়ে দিচ্ছেন তারেক রহমান ফুলপুর বওলা থেকে গৃহবধূ নিখোঁজ পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের হাওয়া: নতুন আইজিপি নিয়ে জোর গুঞ্জন আইজিপির পদত্যাগের খবর সঠিক নয়: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে জামায়াত আমিরের অগ্রিম শুভেচ্ছা মন্ত্রিপরিষদের নতুন সচিব এম সিরাজ মিয়া দুর্গাপুরে এক নারীর ঘরে থেকে গাঁজা উদ্ধার, তিন মাসের কারাদণ্ড দুর্গাপুরে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, মা-মেয়েসহ আহত ৪ জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান