সব
ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিজয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরা ২টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ময়মনসিংহের সবগুলো আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।
আসনভিত্তিক ফলাফল
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)
স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৬ হাজার ৩৩৯। এই আসনে মোট ১৪৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয় এবং বৈধ ভোট পড়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭৩টি।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)
১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট। এই আসনে ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেইন ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৯৯৫ ভোট।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর)
বিএনপি প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল আহসান এমরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৮০ ভোট।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)
বিএনপি মনোনীত জাকির হোসেন বাবলু ১ লাখ ২৮ হাজার ৯০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান আকন্দ পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২২৬ ভোট।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)
১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ২৯১ ভোট।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)
বিএনপি প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ৯৯ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৫১ ভোট।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)
বিএনপির লুৎফল্লাহেল মাজেদ ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১৫ ভোট।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)
বিএনপি প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৬ হাজার ১৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিডিপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১ হাজার ২৯১ ভোট।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)
বিএনপি মনোনীত আখতারুজ্জামান বাচ্চু ৭৫ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৯৯৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)
বিএনপি প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১১ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদ আলম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১৬ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মন্তব্য