সব
ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী এলাকায় মদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে জিয়াদ হাসান সাব্বির (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলেও মধ্যরাতে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভিড় এবং অনলাইন গণমাধ্যম থেকে নিউজ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও গণমাধ্যম কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, আটক জিয়াদ হাসান সাব্বির নিজেকে ডিএনসি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। কয়েকদিন আগে তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পুনরায় চাঁদা দাবি করতে এলে স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরী সেবায় নিয়োজিত ‘৯৯৯’-এ কল করা হলে পুলিশ এসে ভূয়া কর্মকর্তা কে হেফাজতে নেয়। তার কাছ থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভুয়া ডিএনসি আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সাব্বিরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর মধ্যরাতে কোতোয়ালী মডেল থানার সামনে স্থানীয় বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী এসে ভিড় জমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাজনৈতিক মহলের এমন তৎপরতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন রহস্যের দানা বেঁধেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত এই গুরুতর অপরাধীর তথ্য ও আটকের খবরটি মধ্যরাতে কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়। তবে রহস্যজনক কারণে দিনের আলো হতেই বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে সেই খবরগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিউজ সাইটগুলোতে এখন আর এই সংবাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের ধারণা, রাজনৈতিক চাপ বা বিশেষ কোনো মহলের সমঝোতার কারণেই এই নিউজগুলো গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, যেকোনো ধরনের তদবির বা চাপের ঊর্ধ্বে থেকে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভুয়া পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়াই তাকে কোর্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যারা সংগঠিত করবে তাদের রিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য