সব
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়ন—একসময় শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সেখানে অশান্তির ছাপ স্পষ্ট। জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক ঝন্টু, যিনি ‘ভাইয়া’ নামে পরিচিত, তার নেতৃত্বে একটি বাহিনী গড়ে উঠেছে। ‘ভাইয়া বাহিনী’ নামে পরিচিত এই গ্রুপের বিরুদ্ধে অসহায় মানুষের জমি দখল, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।
গত ২ এপ্রিল সরেজমিনে অন্তত ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঝন্টু স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার বাড়ান। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে ১৫-১৬ বছর বয়সী কিশোরদের নিয়ে শতাধিক সদস্যের একটি বাহিনী গঠন করা হয়েছে, যারা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাটিয়া ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান প্রার্থী জানান, বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায় এবং নিয়মিত জুলুম-নির্যাতন ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। দাঙ্গা-হাঙ্গামার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গুলি মজুত রাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, গভীর রাতে অসহায় মানুষের জমি দখলই তাদের প্রধান কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সালিশ বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শামসুল হক ঝন্টু বলেন, “ঈশ্বরগঞ্জে অধিকাংশ সাংবাদিক ভুয়া এবং তারা টাকার বিনিময়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করছে। কেউ কেউ ২০০ টাকা নিয়েও নিউজ করে। এমনকি একটি জাতীয় পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আমার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল, না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে সংবাদ করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, “কিছু সাংবাদিক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসে খাবারের বিলের জন্য অপেক্ষা করে। সেই বিল না দিলে তারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
মন্তব্য