সব
ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার এবং জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনব্যাপী তারা জেলার নদীভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।
পরিদর্শনের শুরুতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারি ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর গ্রামে (ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীর) নদীভাঙনের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বসতবাড়ি, আবাদি জমি এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরেজমিনে অবগত হন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি, জরুরি প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
এরপর তারা ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচার চর নামাপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন। এ সময় নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। দুর্গত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা আশ্বস্ত করেন যে সরকার তাদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দল সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চর শ্রীকলদি গ্রাম এবং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের চর দরি গ্রাম পরিদর্শন করেন। এসব এলাকায় নদীভাঙনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নদীভাঙন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হালনাগাদ এবং দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একা ফেলে রাখা হবে না।
জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে নদীভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। যেসব পরিবার নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা হারিয়েছেন, তাদের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকল উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নদীভাঙনের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে তাদের খোঁজখবর নেওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছেন এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
মন্তব্য