সব
ছবি, সংগৃহীত
বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিলাসী আবদার করে বসেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। তারা দেশের ৪৯৫ উপজেলায়ই অফিস স্থাপন করতে চায়।
এজন্য প্রায় দেড় হাজার লোকবল নিয়োগ ও অফিস স্থাপনে সরকারকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। অথচ উপজেলা পর্যায়ের সব ধরনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। উপজেলা পর্যায়ে যে নির্মাণ কাজ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ আছে সেজন্য প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে এলজিইডি’র। সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব বরাবর একটি চিঠি দেওয়া হয়। সেখানে দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পদায়ন করে উপজেলা পর্যায়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি চাওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘এলোকেশন অব বিজনেজ’ অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ সরকারি ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান স্থাপনাসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। সময়ের সঙ্গে কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধি পায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে মাঠ পর্যায়ে ১০টি সিভিল ও ৩টি ই/এম জোন (বিভাগীয় পর্যায়ের সমতুল্য) ও গণপূর্ত সদর দপ্তরে ৪টি, সর্বমোট ১৭টি জোন রয়েছে। প্রতিটি জোনের অধীনে রয়েছে এক/একাধিক সার্কেল (আঞ্চলিক পর্যায়)। মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি সার্কেলের অধীনে রয়েছে একাধিক বিভাগ (জেলা পর্যায়) এবং প্রতিটি বিভাগের অধীনে একাধিক উপ-বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগ ও উপ-বিভাগসমূহ জেলা সদর থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যার ফলে দূরবর্তী উপজেলাসমূহে কাজ তদারকি কষ্টসাধ্য ও বায়বহুল হয়ে পড়ে। সামগ্রিকভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য উপজেলা পর্যায়েও সেট-আপ এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার, অফিস সহায়ক, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান এবং এসি মেকানিক পদে পদায়ন করা হলে কাজের গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে টেকসই নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এজন্য ন্যূনতম সর্বমোট এক হাজার ৪৭৫টি পদ প্রয়োজন। তবে বিদ্যমান জনবল কাঠামো হতে বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর হতে আপাতত ২৭৩ জন ও মাঠ পর্যায় হতে ২২২ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ৪৯৫ জন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বা সম পর্যায়ের কর্মচারী নিয়ে পুনঃবিন্যাসের মাধ্যমে ৪৯৫টি উপজেলায় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পদায়ন করে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব। এ ব্যবস্থাপনায় উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন করে পদ সৃষ্টির প্রয়োজন আপাতত নেই।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে প্রায় দেড় হাজার লোকবল নিয়োগ দিতে হলে সরকারকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। এজন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। তারা আপাতত বলছে, পদ সৃষ্টি না করে পুনঃবিন্যাস করা হবে। এভাবে যদি তারা শুরু করতে পারে তাহলে হয়তো পরের অর্থ বছরে তারা ঠিকই নতুন পদ সৃষ্টির জন্যও চাপ দিবে। এছাড়া গণপূর্ত উপজেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করতে হলে ৪৯৫টি অফিসের জন্যও বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি অফিসের সংখ্যা খুব বেশি নয়। আর এসব কাজ দীর্ঘদিন ধরে এলজিইডি করে আসছে। এতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে না। আর প্রাথমিক বিদ্যালয় বাদে অন্যান্য স্কুল-কলেজের নির্মান-মেরামত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর করে আসছে। এজন্য দুই দপ্তরেরই উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় জনবল রয়েছে। এখন একই কাজ করার জন্য যদি গণপূর্ত অধিদপ্তর অফিস করে, জনবল নিয়োগ দেয় তাহলে তা সরকারের ঘাড়ে বড় ধরনের অপচয়ের বোঝা চাপানো ছাড়া আর কিছুই হবে না।
সূত্র জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ভবন, পুলিশ স্থাপনা, সরকারি বাসভবন, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ করে থাকে। তারাই চিঠিতে বলছে, সময়ের সঙ্গে তাদের কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধি পায়নি। অথচ এরপরও তারা উপজেলা পর্যায়ের কাজও তাদের কব্জায় নিতে চায়। এটা হলে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যেই ভারসাম্য নষ্ট হবে।
এসব বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে, তবে এটি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বিষয় না। মন্ত্রণালয় তাদের কাছে এর যৌক্তিকতা জানতে চাইতে পারে, তারা যদি যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারে তাহলে নিকার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক উন্নয়ন কমিটি, অর্থ বিভাগ, মন্ত্রি পরিষদে অনুমোদনের বিষয় আছে। তাই এটি লম্বা একটি প্রক্রিয়া। চাইলেই হয়ে গেল তেমন বিষয় না।
তিনি আরো বলেন, এখন উপজেলা পর্যায়ে প্রচুর সরকারি কাজ হচ্ছে। এগুলোর কোনটি এলজিইডি, কোনটি শিক্ষা প্রকৌশল ও শিক্ষা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর করছে। আবার উপজেলা-পৌরসভা পর্যায়ের অনেক কাজের জন্য গণপূর্তের কাছে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে হয়তো প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু এটি চাইলেই ১/২ বছরের মধ্যে হয়ে যাবে এমন কোন বিষয় না।
মন্তব্য