সব
অর্ধ ডজন মামলা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন আত্মগোপনে। গ্রেফতার এড়াতে বাসাসহ আশপাশের এলাকায় স্থাপন করলেন সিসি ক্যামেরা। তবুও শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে সিআইডির কৌশলী অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. সাইফুল ইসলাম (৪০), পিতা-আলী আজম, মাতা-আলেয়া বেগম, সাং- গ্রাম-পশ্চিম বিঘা (তনুল্লার বাড়ি), থানা-রামগঞ্জ, জেলা-লক্ষীপুর। গত ২৮/০২/২০২৬ খ্রি. দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন সাতপাখি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর ইউনিটের একটি চৌকস আভিযানিক দল।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী একটি পুরনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অদ্য গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম ও প্রতারক চক্রের অন্য একজন সদস্য (পলাতক) জাল নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে প্রস্তুতকৃত মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদর্শন এবং গাড়ির কথিত মালিকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে একটি পুরনো গাড়ি বিক্রয় করে। এর মধ্যে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়।
পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে অনলাইনে যাচাই করে জানা যায়, গাড়িটির মালিকানা অন্য ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতারক চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে প্রথমে গাড়িটি বিক্রয় করে এবং পরে কৌশলে অন্যের নামে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা তৈরি করে। পরে ক্রেতাকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। সংঘবদ্ধ প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে এতদ সংক্রান্তে বাদী ক্যান্টনমেন্ট (ডিএমপি) থানার মামলা নং-০৪, তারিখ- ০৮/০৬/২০২৪ খ্রি., ধারা- পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬/৩৪ রুজু করেন।
মামলাটি তদন্তেকালে জানা যায়, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সদস্য হিসেবে বিভিন্ন রেন্ট-এ-কার মালিকদের নিকট হতে গাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জাল মালিকানা চুক্তিনামা ও রশিদপত্র তৈরি করে তা বিক্রয় করে আসছিল। তিনি নিজেকে বিভিন্ন কোম্পানির এমডি, বার্তা সম্পাদক ও চ্যানেলের পরিচালক পরিচয় দিতেন এবং তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা শারমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে প্রতারণার নানা কৌশল অবলম্বন করে। প্রতারক চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে প্রথমে গাড়িটি বিক্রয় করে এবং পরে কৌশলে অন্যের নামে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা তৈরি করে থাকতো। পরবর্তীতে গাড়ির ক্রেতাকে হয়রানি, হুমকি প্রদান করে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করে।
মামলা রুজুর পর আসামি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল এবং গ্রেফতার এড়াতে বাসাসহ আশপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে। অবশেষে সিআইডির কৌশলী অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে
১। ভাটারা (ডিএমপি) থানার মামলা নং-০৪(০৬)২০২৪,ধারা-৪২০/৪০৬ পেনাল কোড;
২। চাঁদপুর মডেল থানার মামলা নং-৬১(০৯)২০১৮, ধারা-৩৭৯/৩৮০ পেনাল কোড;
৩। গুলশান (ডিএমপি) থানার মামলা নং-৫৩(০৮)২০২৫, ধারা-৪০৬/৪২০/৫০৬ পেনাল কোড;
৪। সিআর মামলা নং-২১০/২৪, ধারা-৪১১/৩৪ পেনাল কোড;
৫। সিআর মামলা নং-৩৩/২৪, ধারা- এন আই এ্যাক্ট ১৩৮;
৬। সিআর মামলা নং-৫৯২/২৩, অন্যান্য ধারা – সমূহ যথাক্রমে তদন্ত ও বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত প্রতারক মো. সাইফুল ইসলাম (৪০) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছে। মামলা সম্পর্কিত আরো তথ্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে তাদেরকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।
সিআইডি সুত্রে জানা যায়,
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম ঢাকা মেট্রো-উত্তর ইউনিট কর্তৃক চলমান রয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
মন্তব্য