সব
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় রাম্তা দখল, নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ নিজের ভাই, ভাতিজাসহ এলাকাবাসি। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি।
এমন অভিযোগই উঠেছে উপজেলার আছিম কুটিরা দাখিল মাদরাসার এবতেদায়ী শাখার জুনিয়র মৌলভী শিক্ষক বেলায়েত হোসেনেের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শিক্ষক বেলায়েত হোসেন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি। নিজের খেয়ালখুশি মতো মাদ্রাসায় আসতেন। তার একক আধিপত্যে শিক্ষার্থীরা পাঠদানে বঞ্চিত ছিলেন। যে কারণে ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক বেলায়েত হোসেনকে মাদ্রাসা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নানা অনিয়ম, মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকে বেতন উত্তোলন, ঠিক মতো ক্লাস না করানো, মাদ্রাসায় একক আধিপত্ত বিস্তারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িত বরখাস্ত করা হয়েছে।
কুটিরা মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, বিনা কারণে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় তাকে শোকজ করা হয়েছিল। শো-কজ করলেও তিনি কোন জবাব দেয়নি। শো-কজের জবাব না দেয়ায় রেজুলেশন করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও সরকারি রাস্তার জমি দখল, খোদ আপন ভাই, ভাতিজাদের উপর নৃশংস হামলা। তার অমানসিক অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি প্রতিবেশীরাও। তার অপকর্ম নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশীদেরকেও মামলার আসামী করেছেন বেলায়েত হোসেন। তার অত্যাচারের অতিষ্ঠতা থেকে বাঁচতে ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আপন বড় ভাই ইমান আলী জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে, কোন অভিযোগই কোন কাজে আসেনি।
সরকারি রাস্তা দখল করায় গ্রাম্য সালিশ না মানার অভিযোগে প্রতিবেদন দিযেছেন স্খানীয় ইউনিযন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস।
তিনি বলেন, বেলায়েত হোসেন রাস্তা দখল করার অভিযোগ উঠে। পরে ওই অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনসহ সালিশ করা হয়। তবে, সালিশের সিদ্ধান্ত না মানায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। একই সাথে প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগের নেতার ঘনিষ্ঠতার সুযোগে এলাকায় রাজত্ব শুরু করেন বেলায়েত হোসেন। সরকারি রাস্তায় ঘর নির্মাণ করে জনসাধারনের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করেন। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে আপন ভাইয়ের স্ত্রী, সন্তানদের প্রকাশ্যে দিনের বেলায় দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে হামলা করেন।
স্থানীয় আব্দুল মান্নান বলেন, আমার চাচার অত্যাচারে গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আমাকেসহ পরিবারের লোকজনকে মারাত্নক ভাবে হামলা করেন। সে সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি। তার ক্ষমতার কাছে সবাই যেনো অসহায়।
স্থানীয় মঞ্জুরুল হক ও আবু তাহের বলেন, বেলায়েত আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হওয়ায় মাদ্রসায় ঠিকমতো পাঠদান করতেন না। এসময় তারা শিক্ষক বেলায়েতের স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানান।
এডহক কমিটির আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষকের অনুপস্থিতের বিষয়ে জানুয়ারি মাসের ২ তারিখে বেতন বন্ধের বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, শো-কজের জবাব না দেয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হযেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা বলেন, নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সামযিক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্খা নিতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্তব্য