সব
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪২ নং ছোট বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় দাতা পরিবার—মরহুম আব্দুল আওয়াল খান (চেয়ারম্যান), মরহুম জহুর আলী খান ও মরহুম আবদুল জব্বার শেখ—বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমির প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, একই খতিয়ান নং ১৭৭ ও বিআরএস দাগ নং ১৫৯-এ বিদ্যালয়ের ৫৪ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও মোঃ শহীদ খান নামের এক ব্যক্তি ওই জমির ২১ শতক অংশ ক্রয় সূত্রে নিজের মালিকানা দাবি করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা: আফতাবুন নাহার রোজি জানান, ৫৪ শতাংশ জমি স্কুলের সীমানা নির্ধারণ না থাকায় বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু স্কুল থেকে ৫ফুট দূরে ভবন নির্মাণ করছে বলেই মৌখিক ভাবে শহীদ খানকে স্থাপনা করার অনুমতি দিয়েছি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও দাতা পরিবারের পক্ষ থেকে হাফেজ জহিরুল আমিন কয়েক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনটির অনুলিপি সহকারী কমিশনার (ভূমি) গফরগাঁও, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং নিগুয়ারী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তার কাছেও প্রদান করা হয়।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে বিদ্যালয়ের জমি পুরোপুরি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জমির ৫৪:শতাংশ জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত মোঃ শহীদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য