সব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের সাহার গঞ্জ, আম্বিকাগঞ্জ বাজার ও আশেপাশের এলাকা জুড়ে চলছে অনিরাপদ চিকিৎসা সেবা, যার ফলে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় প্রায় ২০টির মত প্যাথলজি ও ফার্মেসি রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার থাকলেও বাকী দিনগুলোতে রেজিস্টার ছাড়াই ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টগুলোতে প্রায়শই ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা রোগীদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, যা এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
সারা বাংলাদেশে যখন রেজিস্টার বিহীন ডাক্তারদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তখন পরানগঞ্জ ইউনিয়নে চলছে ভূয়া ডাক্তারদের রমরমা ব্যবসা। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞানতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন সমাজ সেবক জানান, শহর থেকে সপ্তাহে একদিন রেজিস্টার্ড ডাক্তার আসলেও বাকি দিনগুলোতে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন অনুমোদনহীন, তেমনি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কাগজপত্র ও পরিবেশের অনুমতি না থাকার কারণে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কল দিলে একজন মুটোফোনের কল রিসিভ করলে তার কাছে অনুমোদন ও সাস্থ্যসেবা সর্ম্পকে জানতে চায়লে তিনি এক কথায বলেন বেশীর প্রতিষ্ঠানের সঠিক অনুমোদন নেই।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: ফয়সাল মুঠো ফোনে জানান,
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আন্তরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ বিষয়ে এক মতামত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ী দোষী ব্যাক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রধান করতে যে কোন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
তিনি আরো বলেন, অনুমতিবিহীন কোন কোন প্রতিষ্ঠান আছে এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি নেওয়া কোথায় কী করতে হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজের রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, জেলা সিভিল সার্জনের অনুমতি/ছাড়পত্র ব্যতিত কোন প্যথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হল চালু করা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত। এ ধরণের ক্লিনিক যত্রতত্র চালু থাকলে অপচিকিৎসার কারণে রোগীর জীবনহানীর আশংকা থাকে।
ময়মনসিংহ সদরের চরাঞ্চলে বিদ্যমান অনুমোদনহীন প্যাথলজি ক্লিনিক/মেডিক্যাল হলগুলো নিয়মের আওতায় আনা জরুরি।। যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে চরাঞ্চলে ক্লিনিকগুলো পরিচালনা হলে অপচিকিৎসার হাত থেকে সাধারণ রোগী আশকাংমুক্ত থাকবে বলে মনে করি। এছাড়া,
চরাঞ্চলে স্থাপিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করা হোক। তাহলে এলাকার সাধারণ মানুষে রাষ্ট্রের চিকিৎসাসেবার সুফল পাবে।
সচেতন মহল মনে করেন, এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতি উন্নত করতে জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে, রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া, চরাঞ্চলের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের আওতায় আনার পাশাপাশি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত করাও জরুরি।
মন্তব্য