সব
রাজনৈতিক প্রভাবে স্থানীয় ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছিলো সেলিম, সেখানেও নৈশ প্রহরী, ঝাড়ুদার সহ একাধিক পদে লক্ষ লক্ষ টাকা বাণিজ্য করেন তিনি।
সুত্রে জানা যায় ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য,একই মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত ৭লাখ টাকা ও নারায়নপুর তোরার মোর জামে মসজিদ ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে এবং ভাবখালী মোজায় ব্রহ্মপুত্রের তীরে ভাসমান কিছু জমি জোর পুর্বক দখলে নিতে গেলে এনিয়ে এলাকাবাসীর সাথে তার সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরী হওয়া নিয়ে সংবাদের শিরোনাম হন সেলিম।
অভিযোগ রয়েছে , তিন ফসলি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে উপজেলার ভাবখালী গ্রামের ভাবখালী মৌজায় ব্রহ্মপুত্র নদের পুর্বপাশে জমিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নাম করে জমি ক্রয় করে সেলিম।
অথচ সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তিন ফসলি এসব জমিতে গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, ধান, পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসল আবাদ করা হয়। প্রতিবছর এসব জমি থেকে কয়েক হাজার টন ফসল উৎপাদন হয়। ২০১৯ সাল থেকে এ এলাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও সাবেক যুবলীগ নেতা ইউসুফ আব্দুল্লাহ আল মামুম সেলিমের নেতৃত্ব স্থানীয় কিছু দালালের মাধ্যমে জমি ক্রয় শুরু করে ওই প্রতিষ্ঠানটি। তবে কৃষকরা তাদের জমি বিক্রয় করতে অনিচ্ছুক থাকলেও দালাল চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে জোর পুর্বক এসব জমি ক্রয় করার পায়তারা করে জমিতে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড স্থাপন করলে কৃষকরা তা ভেঙ্গেচুরে ফেলে দেয়। এনিয়ে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আইনের অপব্যবহার করে নিরিহ অনেক সাধারণ মানুষের জমি জবর দখল করে বড় বড় নেতাদের নিকট বিক্রি করে লুটেপুটে খেয়েছেন টাকা।
জমির মালিক স্থানীয় আব্দুল জব্বারের ছেলে মকবুল হোসেন বলেন, ‘গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। একমাত্র কৃষি জমির ওপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার। প্রভাবশালী একটি কোম্পানি মালিকের সাথে আতাত করে সেলিম তাদের সঙ্গে সমঝোতা না করেই শিল্পকারখানা নির্মাণ করার পায়তারা করে ইতোমধ্যে অনেকের জমি কোন সমঝোতা ছাড়াই দখলে নিয়েছেন। এছাড়া তাদের জমি দখলে নিতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে জমি রক্ষাসহ জনজীবন বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।’
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ বিভিন্ন পদে বদলি, নিয়োগবাণিজ্য
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বাণিজ্য সহ নানান দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ময়মনসিংহ ও নিজ এলাকায় হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন সেলিম।ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী ময়নার মোড় এলাকায় জমিসহ আলীশান বাড়ী করে সেখানে বিলাশ বহুল জীবন জাপন করছেন।
তবে গত ৫ আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আইনের আওতায় আসলেও সেলিম রহস্য জনক ভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। সেলিমকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে স্থানীয় বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছেন।
যার সম্পর্কে বলা হয়েছে তার পুরো নাম ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)। বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নং ভাবখালী ইউনিয়নের ভাবখালী গ্রামের মাথালিয়া বাড়ী। স্কুল জীবনে যোগদেন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে। ভাবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী মীরের হাত ধরে রাজনীতিতে হাতে খরি।
ছাত্রলীগের ক্যাডার থেকে হয়ে উঠেন যুবলীগের ক্যাডার। ভাবখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সুবাদে পরিচয় হয় ময়মনসিংহের মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমীর আহমেদ চৌধুরী রতনের সাথে। সেই সুবাধে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদসহ আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের অনেক নেতৃস্থানীয় নেতাদের সাথে পরিচয় ঘটে তার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়ে যান বিশেষ সুপারিশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল হক হলে কাগজে কলমে ডিউটি পড়লেও দলীয় প্রভাবে কোনদিন নিয়মিত ডিউটি করেন নি তিনি। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই বেড়িয়ে যেতেন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বদলী,চাকরী বাণিজ্যসহ নানান অনিয়ম দুর্নীতিতেই দিন পাড় করতেন।তারই সাথে সেয়দ আশরাফুল ইসলামের ভাই সৈয়দ শাফায়াত ইসলামের সাথেও ঘরে উঠে সখ্যতা। জড়িয়ে পড়েন জমির দালালীসহ বিভিন্ন কাজে।
বাকৃবিতে নিয়মিত অফিস না করলেও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে কেহ মুখ খুলার সাহস করতেন না। এ সময় আলাদিনের প্রদীপ পেয়ে যান সেলিম। সরাসরি জড়িয়ে পড়েন ঘুষ, মামলা বাণিজ্যর সাথে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের জমি ক্রয় করে দিয়ে কোটি-কোটি টাকা লুটপাটে খান তিনি। সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিলেন তার কাছে চরম অসহায়। আপোষে জমি বিক্রি না করলে প্রভাব আর প্রশাসনিক ক্ষমতার জোরে দখলে নিতেন জমি। সরকারি খাস জমি খুজে বের সেসব জমিও নেতাদের কাছে বিক্রি করতেন তিনি। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাক্ষর জাল করা সহ নকল সীলমোহর তৈরী করে নিতেন এই সেলিম এমন। জনশ্রুতি রয়েছে ।
মন্তব্য