সব
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতিমধ্যে ইসিকে চিঠি দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এই তিন সিটির ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি কর্পোরেশন এবং একই সঙ্গে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
তারাই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন খুব সন্নিকটে বলেই ধারনা করা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন ঘিরে ময়মনসিংহে মেয়র ও কাউন্সিলর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানান জল্পনাকল্পনা।
মেয়র পদে নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিষয়টি চুড়ান্ত না হওয়ায় ভোটের মাঠে রয়েছে নানান ধরনের হিসাব নিকাশ।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটের মাঠে দৌড় প্রতিযোগিতায় কেহই কারও পিছিয়ে নয়। মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার আয়োজন, সেহরির খাবার বিতরণ, উঠান বৈঠক ও রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন পেশা শ্রেনীর মানুষের দোরগোড়ায় গৌছতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র প্রার্থীরা।
এদিকে নতুন করে গুঞ্জন বইছে আওয়ামী সরকারের শাসনামলে অর্থ ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বার বার নির্বাচিত আত্মগোপনে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সভাপতি মোঃ ইকরামুল হক টিটুকে নিয়ে। এখানেও রাজনৈতিক হিসেবের খাতায় চলছে কড়ায় গন্ডায় হিসাব নিকাশ। সম্প্রতি তাঁর নিজ এলাকা ৯নং ওয়ার্ডে টিটুর উপস্থিতি দেখা গেছে এমন গুঞ্জনেই প্রার্থীতার আলাপ আলোচনা একটি মহলে সরব হয়ে উঠেছে।
সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, বিগত সরকারের শাসনামলে ভোটার বিহীন প্রভাবশালী মেয়র কি সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন? কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ কর্মীদের অভ্যন্তরীন আলোচনার সুত্রে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র, তিনি দল থেকে পদত্যাগ করে হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবুও প্রশ্নই থেকে যায় বিগত সময়ে আওয়ামী সরকারের শাসনামলে পৌর মেয়র থেকে সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে পাহাড়সম অনিয়ম দুর্নীতি করে কতটুকুই বা জনগণের আস্থা অর্জন করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং নির্বাচন ঘিরে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। তবে দলীয় প্রতীক ও প্রার্থিতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে ভোটের মাঠের বাস্তব চিত্র।
এদিকে ৩৩ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সরগরম। ইতিমধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত প্রার্থীদের সাথে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় সমতালেই ভিন্ন কৌশলে ভোটারদের দ্বারেদ্বারে দৌড়াচ্ছে আওয়ামী সমর্থিত সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার দিকে। তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে মসিক নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বহুমাত্রিক হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য