সব
ঢাকা–৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, রাজধানীতে গ্যাস সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতীয় সংকটের পাশাপাশি পুরনো ও অপরিকল্পিত পাইপলাইন, অবৈধ সংযোগ এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষ বৈধ সংযোগ নিয়েও ন্যায্য গ্যাসচাপ পাচ্ছে না। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজারে ৪২ নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও এই দুর্ভোগের ভুক্তভোগী। আমার বাসায়ও নিয়মিত গ্যাস থাকে না। স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও গৃহিণীদের জন্য এটি অসহনীয় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাত তিনটায় উঠে রান্না করা কোনো স্বাভাবিক জীবন নয়।’ ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে এই মুহূর্তে জোরালো ভূমিকা রাখা সম্ভব না হলেও নির্বাচনী বাধ্যবাধকতা শেষ হলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম পাঠিয়ে সমস্যার একটি কারিগরি প্রতিবেদন দিয়েছে। সুযোগ পেলে প্রথমেই এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবো।’ বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই অন্ধকার সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও সাহসিকতা দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের গ্রেফতার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার মায়েদের কান্না—এসব ঘটনা আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে আরও দৃঢ় করেছে।’ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি আগে কখনো রাষ্ট্র বা সংগঠনের কোনো দায়িত্বশীল পদে ছিলেন না। তাই এখনই বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। ‘আমি কথা দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই,’—বলেন তিনি। আগামী ২১ তারিখ প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের প্রতি বিশেষ করে নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি নির্বাচিত সরকার আসতে হবে। ভোটাধিকার হরণ, ভোট ডাকাতি—এসব আর কখনো বাংলাদেশে হতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ‘হিন্দু-মুসলমান, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ—সবাই এই রাষ্ট্রে সমান। বিভাজনের রাজনীতি নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে তিনি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তার যোগ্যতা প্রমাণ করবেন। ‘আমার উদ্দেশ্য ও নেক নিয়ত আপনারাই যাচাই করবেন আমার কর্মের মাধ্যমে,’—বলেন তিনি।
মন্তব্য