সব
ময়মনসিংহে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতারের পর থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০–১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব।
তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০–১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে রাতেই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ঘটনার পরপরই একজনকে আটক করা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। আহত রাসেল বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আরিফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল নগরীর দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুলকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে থানায় নেওয়ার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন এবং একপর্যায়ে হামলাকারীরা আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আহত পুলিশ সদস্যদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য