ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় আ:লীগ সমর্থক সাবেক ইউপি সদস্যকে আটকের পর থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে মরিয়া জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা।
বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত আব্দুর রহমান দুলালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
আটকের পর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির গোলাম মোস্তফা ১০/১৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে থানায় আটক আ: লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্য দুলালকে ছেড়ে দেয়ার দাবী জানান এবং সে এখন আমাদের কর্মী বলে দাবী করেন। তিনি নাকি গত ২০ জুলাই জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলেও জানান ঐ জামায়াত নেতা।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আব্দুর রহমান দুলাল আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ১৭ বছর বালিয়ান ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হিসেবে থাকাকালীন বীরদর্পে চলাফেরা করেছেন। এখনো তার সামনে কেউ আ: লীগকে দোষারোপ করলে তাকে মারতে যায়। ফ্যাসিষ্ট সরকার বিদায়ের বর্ষপূর্তিতে আনন্দ মিছিলে যুবদল নেতা সোহাগকে পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে দুলালের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম ময়মনসিংহ কোর্টে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন বালিয়ান ইউনিয়নের বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার রাতে আঃলীগ সর্মথিত সাবেক ইউপি সদস্য দুলালকে থানায় আটক করে নিয়ে আসলে, রাতেই জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা ছাড়িয়ে নিতে তদবির শুরু করেন। এই জামায়াত নেতার থানায় তদবির বানিজ্যে অতিষ্ঠ দলীয় নেতা কর্মীরা। সম্প্রতি জামায়াতের এই নেতা কোন এক মামলায় আসামির পক্ষে সুপারিশ করতে গেলে বাদী পক্ষের সাথে হাতা হাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশের সাথে জামায়াতের সখ্যতা থাকায় আ:লীগের নেতা কর্মীরা আটক হলেও তদবিরে বেড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পুলিশ যাকে ধরেছে, তিনি বর্তমানে আমাদের সংগঠনের লোক।’ পূর্বে সে আ: লীগ ছিলেন কিন্তু এখন সে আমাদের লোক আমরা তাকে ছাড়িয়ে নিতে এসেছি।
ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রোকনুজ্জামান বলেন, নেতারা তাদের দাবি নিয়ে আসতেই পারেন কিন্তু আমার তাকে ছেড়ে দেওয়া কোন সুযোগ নেই। আইনগত ভাবে যা করার আমরা তাই করবো।
মন্তব্য