সব
গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া এক কাজের বিল দু’বার দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবরে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আদালতেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরস্পর জোগসাজশ ও দুর্নীতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন বিভাগ এ নিয়ে তদন্ত করছে। অভিযোগে জানা গেছে, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমি উন্নয়ন কাজে দুর্নীতি করে সাড়ে ৬ কোটি সরকারি টাকা লুটপাট ও তছরুপ করা হয়েছে। এই দুর্নীতির হোতা পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তা গাজীপুরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা। এর সঙ্গে জড়িত আছেন সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাওন চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জোবায়ের ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান। অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, তাজউদ্দীন হাসপাতাল নির্মাণ কাজের বালু ভরাটে প্রথম ও দ্বিতীয় সেকশনে দু’টি টেন্ডার করে এবং টেন্ডার অনুযায়ী বালু ভরাট না করে অনিয়ম করা হয়।
দ্বিতীয় টেন্ডারের সেকশন ওয়ানে প্রস্তাবিত ভরাটের পরিমাণ ছিল ১৫.৫৫২ ফুট এবং সেকশন টু এ প্রস্তাবিত বালু ভরাটের পরিমাণ ছিল ১৪.৪৯২ ফুট। টেন্ডার করার পর টেন্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী বালু ভরাট না করে বাস্তবে দুই ধাপে বালু ভরাট করে মাত্র ৯ ফুট। কিন্তু বিল দেয়া হয় ১৪ ফুটের বেশি পরিমাণের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করা হয় ১০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বিল প্রদান বিষয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেজারমেন্ট বুকের এমবি ৩৩৩৯- মোতাবেক চতুর্থ চলতি বিলে বালু ভরাটের বিল দেয়া হয় ১১ ফুট উচ্চতায় কিন্তু সরজমিন কাজ করেছে মাত্র ৬ ফুট। শুধু তাই নয়, প্রথম ঠিকাদারের পরিমাপ এমবি-২৭২৮ মোতাবেক দ্বিতীয় ঠিকাদারের পরিমাণ যুক্ত করে বিল প্রদান করা হয় ১০ কোটি টাকার বেশি। প্রথম ঠিকাদারকে তার কাজের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা বিল প্রদান করা হলেও সেই পরিমাণ বালু দ্বিতীয় ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে যুক্ত করে মোট বিল প্রদান করা হয়। কম বালু ভরাট করে বেশি টাকা অর্থ বিল দিয়ে ভাগাভাগির বিষয়ে অভিযোগ উঠলে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে গাজীপুর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। তদন্তের স্বার্থে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে রেকর্ডপত্রসহ তথ্য সরবরাহ করার চিঠি দিয়েছে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিচালক সাগর কুমার সাহা। এতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার চাকমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, দায়িত্ব অবহেলা ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
পত্রটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গাজীপুরে কর্মরত অবস্থায় তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমি উন্নয়ন কাজে দুর্নীতি করে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি সরকারি টাকা লুটপাট তছরুপ করেছেন। প্রকল্পের টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের আবেদনপত্রের কাগজপত্র, ওপেনিং কমিটি, মূল্যায়ন কমিটি, টাকা উত্তোলনের বিলসহ যাবতীয় রেকর্ডপত্র দুদুকের তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জমা দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে সুষ্ঠুভাবে বিষয়টি অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদকের মাধ্যমে গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও গাজীপুর সড়ক বিভাগের প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। ওই দুইজন প্রকৌশলী অনিয়মে জড়িত নির্বাহী প্রকৌশলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কতোটুকু ভূমিকা পালন করতে পারবেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্ব অবহেলা ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা গণমাধ্যম কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে যেহেতু তদন্ত হচ্ছে, তাই এই নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। তবে সেখানে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাওন চৌধুরী বলেন, তদন্তে থাকা বিষয় নিয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি না।
অপরদিকে ঢাকা গণপুর্ত সিভিল শেরেবাংলা নগর, মহাখালী ডিভিশন সহ বেশ কয়েকটি সিভিল ও ই/ এম বিভাগে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মন্তব্য