নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটেনি এখনো। গত ১৫ অক্টোবর রাতে উতরাইল বাজার-সংলগ্ন তেলুঞ্জিয়া এলাকায় ছয়টি গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল সাংবাদিক আলিফ ফকিরের বুক। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই থমথমে হয়ে থাকা এই জনপদে অবশেষে তদন্তের জট খুলতে শুরু করেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এবার পুলিশের জালে ধরা পড়েছে আরও দুই সন্দেহভাজন। এই নিয়ে চারজনকে আইনের আওতায় আনল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালায় নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং তেরিবাজার এলাকার মো. শেখ সাব্বির আহম্মেদ (২৫) কে। নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, গত বছরও সাংবাদিক আলিফের ওপর একবার হামলা হয়েছিল। সে সময় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আজকের গ্রেপ্তার হওয়া ইমন। এবারের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়েও ফের উঠে আসে তার নাম। শুধু আলিফ হত্যাচেষ্টাই নয়, ইমন ও সাব্বির-উভয়ের বিরুদ্ধেই হত্যাসহ নানা অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আরও অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের ঘিরে যে রহস্যের জাল তৈরি হয়েছিল, তা ভেদ করতে এবার আরও এক ধাপ এগোলো গোয়েন্দারা।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া ইমন ও সাব্বির মূলত হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। খুনের ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ থেকে নেত্রকোনায় আনার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে পেশাগত দায়িত্ব ও জীবনযুদ্ধে থাকা সাংবাদিক আলিফকে তেলুঞ্জিয়া এলাকায় নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী খাদিজা আক্তার (অনিন্দিতা সাংমা) বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একের পর এক সহযোগীরা ধরা পড়লেও, সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টি এখন মূলহোতাদের দিকে। রিমান্ডে ইমন ও সাব্বিরের কাছ থেকে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং কবে নাগাদ মূল সন্দেহভাজনরা পুরোপুরি আইনের আওতায় আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে দুর্গাপুরবাসী।

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি।।