প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৪৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি ৩ কর্মকর্তা ( তোফাজ্জল-নাহিদা বারিক- রকিবুর) এবার ওএসডি

সেলিম মিয়া।।

আবেদনপত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার কোনো উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি বাগিয়ে নেওয়া তিন উপসচিবকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির তথ্য উঠে আসার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করল।

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এই ওএসডির আদেশ দেওয়া হয়।

ওএসডি হওয়া ২৯তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ওই তিন কর্মকর্তা হলেন— জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার,তোফাজ্জল হোসেন। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক,রকিবুর রহমান খান । বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক ।

সরকারি নথি ও দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ২০০৭/২০০৮ সালে পরীক্ষা দেওয়ার সময় এই তিন কর্মকর্তার কেউই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেননি।

২০১১ সালের ১০ জুলাই ২৯তম বিসিএসের প্রথম গেজেটে প্রশাসন ক্যাডারে ১৮৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ায় ১৪টি পদ খালি রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম গেজেট প্রকাশের দীর্ঘ ১৩ মাস পর ওএসডি হওয়া এই তিন কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজনের নামে রহস্যজনকভাবে অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যেখানে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়।

বিষয়টি সামনে এলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গভীর অনুসন্ধান চালায় এবং ভুয়া কোটা ব্যবহার ও সরকারি নথিতে প্রতারণার সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে।

বিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ ও অন্যান্য ক্যাডারের অবস্থা

গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয় যে, আবেদন না করেও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় ২৯তম বিসিএসে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে মোট ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদক পৃথক ছয়টি মামলা করেছে। ওই চিঠিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও দীর্ঘ ছয় মাস পর কেবল প্রশাসন ক্যাডারের এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএসডির আদেশ জারি করা হলো।

জানা গেছে, জালিয়াতির একই মামলায় অভিযুক্ত বাকি তিন কর্মকর্তা বর্তমানে পুলিশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত আছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন