প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:৫৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুড়িগ্রামে ডিসি ফুড সহ ৪ খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে সরকারি চাল ও ধান মজুতে অনিয়মসহ দুই কোটি টাকার অধিক মূল্যের খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে জেলার চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুড়িগ্রামের উপসহকারী প‌রিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধু‌রী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সিনিয়র জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান ও কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হামিদুল হককে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুড়িগ্রামের উপসহকারী প‌রিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধু‌রী। তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে অভিযানে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে অনিয়মে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে কমিশন বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়। কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে আজ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।মামলার এজাহারে অভিযোগে করা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়।

এর মধ্যে নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে না পাওয়া ধানের বিষয় রয়েছে। এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকে অভিযান চালায়। এ সময় খামাল কার্ড, গুদাম রেজিস্টার, সেন্ট্রাল লেজার ও গুদাম লেজারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে নথিভুক্ত মজুতের তুলনায় ৪২ দশমিক ২০৫ মেট্রিক টন চাল কম পাওয়া যায়।

প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৫৮ হাজার ৩১৮ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা।এছাড়াও খলিলগঞ্জ ব্লকের টিএফএস-৭ নম্বর গুদামে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭১১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪০ মেট্রিক টন ধানের বিল পরিশোধের তথ্য ছিল। যাচাইয়ে ১৯০ মেট্রিক টন ধান গুদামে পাওয়া গেলেও বাকি ৫০ মেট্রিক টনের সন্ধান মেলেনি।ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য মেসার্স এলাহী অটো রাইস মিলে পাঠানো হয়েছিল।

তবে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ওই মিল পরিদর্শন করলে মালিক মো. মুকুল সরকার জানান, তার মিলে কোনো ধান পাঠানো হয়নি। একই গুদামের নথিতে থাকা আরও ৪৭১ মেট্রিক টন ধানের বাস্তব মজুত বা সংগ্রহের পক্ষে সমর্থনকারী তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ধানের মূল্য ৩৪ হাজার টাকা হিসাবে এসব ধানের মূল্য এক কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

চাল ও ধানের মজুতসংক্রান্ত এসব অসংগতির কারণে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শিশু নিকেতন ব্লকের এসএফ-৩ নম্বর গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন স্থানে নথি-বহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়।

এ চালের সংগ্রহ, ওজন, মান, মজুত ও পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য হিসাবে এর দাম ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। গত ১২ জানুয়ারি চালগুলো জব্দ করে জিম্মায় দেয়া হয়।দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহসংক্রান্ত রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি ও ব্যবহার করে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

পাশাপাশি নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার বাদী দুদকের কুড়িগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প‌রিচালক মো. মিজানুর রহমান চৌধু‌রী বলেন, অভিযান চালানোর পরই কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দেয়া হয়। এতে মামলা করার অনুমতি চাওয়া হয়। মাঝখানে কমিশন ছিল না। কমিশন হওয়ার পর মামলা করার অনুমতি দেয়া হয়। ২৭ অক্টোবর কুড়িগ্রাম সিনিয়র জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে শতাধিক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য পরিদর্শকের ঞ্জাত আয় বহিভুর্ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে হলেন গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ( ডিসি ফুড) শফি আফজালুল আলম, কিশোরগঞ্জের আলমগীর হোসেন, টাংগাইলের মইনুল ইসলাম, বগুড়ার ডিসি ফুড নাজমুল ইসলাম, নেত্রকোনার সাবেক ডিসি ফুড মোয়েতাছেমুর রহমান, সাবেক ডিসি ফুড সাইফুল ইসলাম , ইকবাল বাহার চৌধুরী, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছাইদুল ইসলাম, রফিকুল আলম, সাইফুল ইসলাম, খাদ্য পরিদর্শক ও এলএসডির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান, মধুপুর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন , ঘাটাইল এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, ধনবাড়ি এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখ শফিক, কালিহাতী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক দুলাল সহ শতাধিক ডিসি ফুড, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য পরিদর্শকের রয়েছে ঞ্জাত আয় বহির্ভুত সম্পদ ও নামে বেনামে ব্যাংক ব্যালেস্হ, সহায় সম্পদ।
অনেকের রয়েছে রাজধানীর গুলশান, উওরা, মিরপুর এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ী । আয়ের সাথে ব্যয়ের গড়মিল।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন