প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‎মমেক হাসপাতালে ময়লার সাথে কৌশলে নেয়া হচ্ছে চিকিৎসাসামগ্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এখানে। অথচ হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে শম্ভুগঞ্জের একটি ময়লার গুদামে। এসব সামগ্রীর মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত। ঘটনাটি ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন, চলছে তীব্র সমালোচনা।

‎

‎বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঙিক্ষত সেবা পেতে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় তাঁদের।

‎

‎রোগীদের সেবাপ্রাপ্তি নিয়ে যখন নানা অভিযোগ, তখন হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী মিলেছে ময়লার গুদামে। সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ কয়েক বস্তা সামগ্রীর মেয়াদ শেষ হতে এখনো কয়েক বছর বাকি। কিন্তু এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে এল কীভাবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। ময়লা সংগ্রহের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, এসব সামগ্রী আবার হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হবে।

‎

‎ময়লা সংগ্রহের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন বলেন, ময়লা সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই কাজে আমরা এগারোজন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছি। চারজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মহিলা সংগ্রহ করে। আর বাকি সাতজন মহিলার গুদাম এগুলো প্রক্রিয়া করি।

‎

‎ময়লার সঙ্গে প্রতিদিন নতুন নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন চলে আসে। এগুলো আমরা আলাদা বস্তায় রেখে দেই। ১০ থেকে ১২ দিন পর তিন থেকে চার বস্তা সরঞ্জামাদি হলে এগুলো হাসপাতালে ফেরত দেই। বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করে দেয়া হয়।

‎

‎হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে ময়লার গুদামে গেল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর মতে, এসব সামগ্রী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বাইরে যাওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় ও তদারকির বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।

‎

‎এদিকে, এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎

‎হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎

‎তিনি আরো বলেন, যেহেতু এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সেহেতু তারা কিভাবে ফেরত দিবে। ছুটি শেষ হলে তাদেরকে ডেকে জবাব চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‎

‎হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, প্রতিদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি ময়লা সরানো হয়। আর ময়লা থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায়।

‎

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন