প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:০৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‎ত্রিশাল থনার এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা, বাদীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা!

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

‎ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক যুবককে তুলে নিয়ে আটকে রাখা, মারধর ও তাঁর পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী মো. নাজমুল হক (১৯), ত্রিশালের বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। আদালতের নির্দেশে গত ৫ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

‎‎বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর তাঁকে ও মামলার সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একই থানার আরেক এসআইকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিজের এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাদী।

‎মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ জুন ত্রিশালের দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচ থেকে নাজমুল হককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো ও মারধর করা হয়। পরে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে তাঁকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

‎মামলার নথিতে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ওই দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশ নাজমুলকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।

‎ঘটনার পরদিন পরিবারটি ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করে। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করা হয়। সেখানেও বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করেন নাজমুল। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে ত্রিশাল থানাকে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।

‎‎মামলায় এসআই নাহিদ পারভেজ ছাড়াও সোহেল মিয়া, ফিরোজ মাহমুদ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ত্রিশাল থানার ইন্সপেক্টর (নিঃ) মো. মনসুর আহমেদ মামলাটি রেকর্ড করেন। তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর (নিঃ) মো. গোলাম মোস্তফা।

‎জানা গেছে, এসআই নাহিদ পারভেজ প্রায় দুই বছর ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তাঁকে ময়মনসিংহ সদরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়।

‎অভিযোগের বিষয়ে এসআই নাহিদ পারভেজসহ অন্য আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

‎নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন