প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে : খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

খাদ্যমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।এরপর তিনি নগরীর দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন এবং হালিশহর সিএসডি কনফারেন্স হল উদ্বোধন করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রাখা হয়েছে। খাদ্য সরবরাহে যাতে কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রাখাই যথেষ্ট নয়, বরং তা যথাসময়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এজন্য খাদ্য সংরক্ষণাগারগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রমজানে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি এবং রমজান মাসে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানকে সামনে রেখে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এসময়ে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমদানি প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতাগুলো নিরসনে কাজ চলমান। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, খাদ্য বিভাগের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জনবল সংকট নিরসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কিছুসময় লাগলেও সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ ও
চট্টগ্রাম সাইলো পরিদর্শনের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।যাতে খাদ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা গেলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়বে।তাই খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন