প্রকাশের সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‎কোটি টাকার মালিক ড্রাইভার মোজাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

‎কোটি টাকার মালিক মোজাহার। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তিনি। পেশায় ড্রাইভার। গাড়ি চালক ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের উপ পরিচালকের। কর্মকর্তার গাড়িচালক। ক্ষমতাও অনেক। বনে গেছেন কোটিপতি।

‎মোজাহার গাড়িচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেও; প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়মে জড়িত। এভাবেই কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

‎ময়মনসিংহসহ বেশ কয়েক জায়গায় রয়েছে বিলাসবহুল বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ফ্ল্যাট। নিজের ও স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। তার এসব দূর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে শেখ মোহাম্মদ দীন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী বলেন, একজন গাড়ি চালক যদি কোটি টাকার মালিক বনে যায় তাহলে তার উর্ধতন কর্মকর্তারা কত কোটি টাকার মালিক হতে পারে।

‎‎তবে গাড়ীচালক মোজাহার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ময়মনসিংহ শহরে একটি ফ্ল্যাট আছে। ১০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছি। আর ১৫ হাজার টাকায় আমি একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকি।

‎জানা গেছে, মোজাহারের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। দেখতে সাদামাটা। গাড়িচালক পেশার সুবাদে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড নেই যা তিনি করেন না। তবে অধিদফতরের নিয়োগ ও বদলী-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ক্রয়, সবই তার নিয়ন্ত্রণে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। তার চক্রে ছিল একাধিক লোক। তার ভয়ে কারো মুখ খোলার সাহস ছিল না। কেউ মুখ খুললে তাকে নানাভাবে হয়রানি করতেন। তার ওপর নেমে আসতো খড়গ। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে হয়েছেন টাকার কুমির। বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট—সবই আছে তার। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর পৌর ভুমি অফিসের কাশর মৌজায় স্ত্রী ইসরাত আারার নামে একটি ফ্ল্যাট। রংপুর মহানগর সার্কেল তপোধন পৌর ভুমি অফিস নৌহাটি কাছনা মৌজায় ১৮ শতক জমি নিজ নামে। লালমনিরহাট সদর পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে চৈতন্য সীতারাম মৌজায় ১৯ শতক ও সাদেক নগর ১১৩/ মৌজায় ৫ শতক জমি।

‎এ বিষয়ে গাড়ীচালক মোজাহার আলী বলেন, আপনি আমাকে চেনেন, আমার জেঠাত ভাই এমপি। আমাকে অনেক সাংবাদিক ফোন দিয়েছে, কথা বলেছে, কিছু হয়নি।

‎‎গাড়ী চালক মোজাহারের রূপকথার গল্প ‘আলাদীনের’ মতো। আলাদীন যেমন জাদুর চেরাগ পেয়ে শূন্য থেকে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি গাড়িচালকের চাকরি পেয়ে শূন্য থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কিনেছেন বহু ফসলি জমি। দামি বাড়ি, প্লট-ফ্ল্যাট। আর সেই টাকায় বিলাসী জীবনযাপনের পাশাপাশি গড়েছেন একের পর এক সম্পদ। দপ্তরের একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপ-পরিচালকের গাড়ি চালানোর সুবাদে আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রায় সব গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের গতিবিধি আগে থেকেই জেনে যেতেন মোজাহার। এই সুযোগে তিনি শিক্ষকদের বদলি ও এমপিও বাণিজ্য। দুর্গম অঞ্চল থেকে সুবিধাজনক প্রতিষ্ঠানে বদলি এবং এমপিওভুক্তির জটিলতা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন।

‎স্থানীয়রা বলছেন, একজন ড্রাইভারের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে উপ পরিচালক, ডিজি, সচিব, চেয়ারম্যানদের অবস্থা কী হবে? কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন— ড্রাইভার মোজাহার একদিনে এমন হয়েছে?

‎অভিযোগকারী শেখ মোহাম্মদ দীন বলেন, দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি কিছু হয় না। সব জায়গায় দূর্নীতিবাজে ভরে গেছে। কে কার বিচার করবে? অভিযোগ দিয়েছি তার অপকর্ম মানুষের সামনে নিয়ে আসতে।

‎মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাঃ নাসির উদ্দীন বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাঃ নাসির উদ্দীন বলেন, মেজাহার আমার গাড়ী চালক তার অনিয়ম দূর্নীতি বিষয়ে আমি জানি না, তবে তাকে আমি যা বলি তাই সে করে। সে ভালো মানুষ। চাকুরি যেহেতু করেন জায়গা সম্পত্তি করতেই পারেন।

‎

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, প্রধান সম্পাদকঃ শিবলী সাদিক খান, নির্বাহী সম্পাদকঃ জহির রায়হান,  বার্তাকক্ষঃ 75bdnews@gmail.com

প্রিন্ট করুন