বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেছেন, মাদক, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন- এই চারটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এই চারটি বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। মাদক একটা পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করছে। মাদক নির্মূল করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও জনগণ সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় মাদক চিরতরে নির্মূল করতে হবে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) শেরপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একজনই নেতা আছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যিনি দেশকে ভালোবেসে, দেশের গণতন্ত্রের পুনঃরুদ্ধারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটা জেলায় প্রায় ৭০ ধরনের সরকারি অধিদপ্তর থাকে। যদি ৭০টি অধিদপ্তর একযোগে সাধারণ জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করেন, তবে জনগণের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আপনারা অতীতের লেজুড়বৃত্তি ভুলে নতুন বাংলাদেশ গড়তে মনস্থির করুন, দায়িত্ববোধ থেকে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন। আপনারা সরকারি কর্মচারী, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নেন, আপনাদের কাজ জনগণকে সেবা দেওয়া। যদি একটি উপজেলার ইউএনও, ওসি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করেন, তবে সে এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক থাকবে।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদগণ চাইলে দেশ অবশ্যই ভালো থাকবে। যদি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তা একে অপরকে সহযোগিতা করেন, অবশ্যই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে। আপনারা মাদকাসক্ত, সংরক্ষণকারী এবং বিক্রয়কারী ব্যক্তির পক্ষে কোনো তদবির সুপারিশ করবেন না। মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ৫ কোটি টাকা জরিমানা। সরকার দেশকে মাদকমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক কারণে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি, পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপনসহ অসংখ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় বই, স্কুল ব্যাগ, মিড ডে মিল, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ চালু করেছে। কারণ, জাতিগতভাবে আমরা শিক্ষিত হলেই দেশটা এগিয়ে যাবে। কৃষক কার্ডের জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ চলছে। শীঘ্রই সারের সংকট কেটে যাবে।
শেরপুরে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্য হতে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা প্রতিরোধে গৃহীত প্রকল্প প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এছাড়াও ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব প্রি-একনেক পর্যায়ে রয়েছে। শেরপুরকে পর্যটনমূখী করতে ঝিনাইগাতীতে একটা হোটেল নির্মাণ করা হবে। সকলে মিলে একসাথে কাজ করে অবহেলিত শেরপুরের ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে।
এছাড়াও সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ১৪৫ শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল, ১৪৪ শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, ৩১৫ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন, পুলিশ সুপার এ.কে.এম জহিরুল ইসলাম এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্টাফ রিপোর্টার।।