মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান’’ এই প্রতিপাদ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ দিবস পালিত হয়।
বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত। মুখ্যআলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক সেলেষ্টিন রিছিল। এসময়, অন্যদের মাঝে সহাকারি কমিশনার (ভুমি) মো. মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, জাতীয় হাজং সংগঠনের সভাপতি পল্টন হাজং, আদিবাসী নেতা জন ক্রসওয়েল খকসি, সাবেক কালচারাল অফিসার সুলোচনা সাংমা, সাংবাদিক সজিম সাইন, পলাশ সাহা এবং রাজেশ গৌড় সহ টিডব্লিউ দুর্গাপুর শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, একাডেমির পরিচালক অঞ্জন কুমার চিচাম, সঞ্চালনা করেন নৃত্য শিক্ষিকা মালা মার্থা আরেং।
বক্তারা বলেন, ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশবে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে বেড়ে ওঠেন তিনি। নজরুলের লেখনীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা মূর্ত হয়ে ওঠে।
তিনি কেবল কবিতাতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। গান, নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, সাংবাদিকতা এবং চলচ্চিত্রেও রেখে গেছেন নিজস্ব স্বকীয়তার স্বাক্ষর। তার রচিত হাজার হাজার গান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে কবিকে সপরিবারে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আনা হয় এবং তাকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। নজরুল কেবল একটি সময়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন; তিনি চিরকালীন ও সর্বজনীন। বর্তমান সময়েও সাম্য, ন্যায়বিচার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের লড়াইয়ে নজরুলের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে পথ দেখাবে।

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি।।